জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার হলফনামায় তথ্য গড়মিলের কথা বলা হয়েছে। যেদিন আমাদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা হয়, আপনারা সকলেই সেখানে ছিলেন। সেখানে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, যে হলফনামা আমরা দাখিল করেছিলাম, সেখানে আমাদের আয়কর রিটার্ন, মেজর যে বিষয়গুলো ছিল, সবগুলাই ঠিক ছিল। তিনি ওই মনোনয়নপত্রটিকে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি সেখানে সবার সামনে তা উল্লেখ করেছিলেন। বুধবার দুপুরে পঞ্চগড়ের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, আমাদের আয়কর রিটার্নে দেখানো আয়ের পরিমাণ তথ্যটির ক্ষেত্রে আমরা একটা মিসটেক করেছি, যেটা পরবর্তীতে আমরা বলেছি, আমাদের যিনি অ্যাডভোকেট, এই টাইপটি করেছিলেন, তার একটা টাইপিং মিসটেক ছিল, এই জায়গায় তার একটা অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। যেখানে তার ৯ লাখ টাকা লেখার কথা ছিল, সেখানে তিনি ২৮ লাখ টাকা লিখেছিলেন। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলটাও কিন্তু সেদিন আমাদের জেলা প্রশাসক সেখানে উল্লেখ করেছিলেন। সেটা আমাদের সংশোধন করে একটা সাপ্লিমেন্টারি, নতুন করে আরেকটা ওই পাতাটা কিংবা হলফনামাটা আমাদের আবার দিতে বলেছিলেন। পরে আমরা ওই পাতাটা, যেটা ভুল ছিল, সেটা আমরা দিয়েছি এবং এটা কিন্ত আইনগতভাবেই করা যায়।
সারজিস আলম বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইচ্ছে করে প্রপাগাণ্ডা করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। আমি নাকি ওবায়দুল কাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে সহযোগিতা করেছি। ওবায়দুল কাদেরের মত যে একটা কালপ্রিট, যার অ্যাগনেস্টে আমাদের লড়াই, আমাদের পেলে শরীর থেকে মাথাটা আলাদা করে ফেলবে, জুলাইয়ে যারা যোদ্ধা ছিল, তাদের মারার জন্য যারা পরিকল্পনা করছে, তাদের আমি সহযোগিতা করব। অথচ জুলাইয়ের সামনের সারিতে থেকে আমরা নেতৃত্ব দিয়েছি, আমরা এনে কি তাকে পালাতে সহযোগিতা করেছি? মনগড়া কথার একটা লিমিট থাকে, যেটার বিন্দুমাত্র কোন বিশ্বাসযোগ্যতা নাই এই ধরনের প্রপাগান্ডা ছড়ানো হলো।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেনের সমালোচনা করে সারজিস বলেন, তিনি যা করবেন, তাই করে পার পেয়ে যাবেন, এটা হতে পারে না। তার মন চাইলো সোশ্যাল মিডিয়ায় যা-তাই পোস্ট করে দিলো, মানুষকে বিভ্রান্ত করল, তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এটা হতে পারে না। আমরা মনে করি, এই ধরনের যারা আছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক হোক, অন্যান্য কোন উদ্দেশ্য হোক, এগুলো চরিতার্থ করতেছে এবং মানুষের সম্মানহানি করতেছে, তাদের শুধু সোশ্যাল মিডিয়া, পেজ বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ নয়, দেশে বা বিদেশে হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।