গোপালগঞ্জে আ. লীগ নেতাদের পদত্যাগের হিড়িক

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদত্যাগের হিড়িক দেখা দিয়েছে। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বুধবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের তিন শতাধিক নেতা ও কর্মী দল থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রতিদিনই জেলার কোনো না কোনো উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। এর মধ্যে মুকসুদপুর ও কোটালীপাড়া উপজেলায় পদত্যাগের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। এরপর রয়েছে টুঙ্গিপাড়া ও কাশিয়ানী উপজেলা।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর, ভাবড়াশুড় ও বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের ৫০ জন নেতা পদত্যাগ করেন।

এর আগে, গত রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বনগ্রাম ও গোহালা ইউনিয়নের সিন্দিয়াঘাট এলাকায় এবং সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১৪ জন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

গত ৩ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের তিন নেতা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়াস্থ একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন।

২৭ ডিসেম্বর পিঞ্জুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৭ জন নেতা ঘাঘর বাজার বিএনপি অফিসে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন।

এছাড়া, ২৩ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ার ৩ জন এবং মুকসুদপুরের খান্দারপাড় ইউনিয়নের ১৪ জন নেতাকর্মী, ২২ ডিসেম্বর খান্দারপাড় ইউনিয়নের ৯ জন, ২০ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ার ১৩ জন ও মুকসুদপুরের দক্ষিণ জলিলপাড়া এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের ১০ জন নেতা পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগকারী নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও দলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখবেন না। কেউ কেউ শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে পদত্যাগ করছেন। আবার কেউ কেউ জানিয়েছেন, দলীয় পদে থাকার বিষয়টি আগে জানতেন না, এখন জানতে পেরে পদত্যাগ করছেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, গত ৫ আগস্টের পর গোপালগঞ্জে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় জেলার একাধিক থানায় অন্তত দুই ডজন মামলা হয়েছে। এসব মামলায় নামে-বেনামে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কেই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী পদত্যাগ করছেন বলে তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কিছু উৎশৃঙ্খল নেতাকর্মীর সাম্প্রতিক কার্যকলাপের কারণে অনেকেই দলটির প্রতি বিতশ্রদ্ধ হয়ে পদত্যাগ করছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারে— সে বিবেচনায়ও দল ছাড়ছেন অনেকে। তবে যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা কেলেঙ্কারি নেই, তারা বিএনপিতে যোগ দিতে চাইলে তাদের সাদরে গ্রহণ করা হবে।’