যশোরে পেনশন ফাইল অনুমোদনের জন্য সোয়া লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণকালে দুর্নীতিদমন কমিশন-দুদকের জালে ধরা পড়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তাকে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যশোরের বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুন্নবী জানান, তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার যশোরের ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। গত বছর ২৩ আগস্ট তিনি মারা যান। তার পেনশন ফাইল অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ ছাড়া তার এক বন্ধুর পেনশনের জন্যও ঘুষ দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। নুরুন্নবী ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দুদক যশোর সমন্বিত কার্যালয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর বুধবার বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ওই ঘুষ দেওয়ার পর দুদক কর্মকর্তারা তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন জানান, ভুক্তভোগী মো. নুরুন্নবীর অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দুদক প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়। এরপর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বুধবার বিকেলে দুদকের একটি দল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। শিক্ষা কর্মকর্তা ঘুষ নেওয়ার পর দুদক সদস্যরা ঘুষের টাকাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
মো. আল-আমিন আরও জানান, এ ঘটনায় দুদক যশোর কার্যালয়ে মামলা করা হয়েছে এবং আটক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।