৫২ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ

কুয়াশা কেটে যেতেই জেঁকে বসেছে শীত। হঠাৎ করে নেমে গেছে তাপমাত্রার পারদ। আর এমনভাবেই দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫২টিতেই বইছে মৃদু থেকে মাঝারিমাত্রার শৈত্যপ্রবাহ। বয়ে যাওয়া এই শৈত্যপ্রবাহ আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার থেকে তাপমাত্রার পারদ একটু বাড়তে থাকলেও আবার জেঁকে বসতে পারে কুয়াশা।

গতকাল বুধবার নওগাঁর বাদলগাছিতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলাতেই বইছে মাঝারিমাত্রার শৈত্যপ্রবাহ। তাছাড়া রংপুর বিভাগের ৮ জেলা, খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, বরিশালের ৬ জেলা, ঢাকা বিভাগের ১২ জেলা, ময়মনসিংহের ৩ জেলা, সিলেটের ৩ জেলা ও চট্টগ্রামের ২ জেলায় বইছে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় ৬ দশমিক ৯, গোপালগঞ্জ ও যশোরে ৭, ঈশ্বরদীতে ৭ দশমিক ২, তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা নেমে এসেছে। অন্যদিকে ঢাকা শহরে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে।

হঠাৎ তাপমাত্রার পারদ নামল কেন : মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রার পারদ নামতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু তা এক দিন পিছিয়ে বুধবারে একযোগে সব স্টেশনে নেমে গেল। এর কারণ জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোকাস্টিং কর্মকর্তা ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের শ্রীলঙ্কার উপকূলে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নচাপের কারণে বায়ুম-লের উপরিভাগের জলীয়বাষ্প সাগরের দিকে চলে যাওয়ায় আকাশ জলীয়বাষ্পমুক্ত হয়ে গেছে। ফলে আকাশে আর ঘন কুয়াশা নেই। ঘন কুয়াশা না থাকার কারণে সূর্যের আলো যেমন বেড়েছে দিনের বেলায়, তেমনিভাবে মধ্যরাতের পর তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এ কারণে তাপমাত্রার পারদ নেমে গেছে।’

এমন শীত কতদিন থাকবে : সাধারণত দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে শীত বেশি অনুভব হলেও কয়েক দিন ধরে দেশ জুড়ে বইছে তীব্র শীত। এমন শীত আর কতদিন থাকবে এ প্রশ্নের জবাবে ওমর ফারুক বলেন, ‘নিম্নচাপের প্রভাব আজকের মধ্যে কেটে যেতে পারে। সে হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার ও কাল শুক্রবার তাপমাত্রার পারদ নিম্নমুখী থাকতে পারে। তবে শনিবার থেকে হয়তো আবার কুয়াশা বাড়তে পারে এবং তাপমাত্রা না কমলেও সূর্যের আলো কমে গিয়ে শীতের অনুভব বাড়াতে পারে।’

শীতের তীব্রতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা বলেন, ‘আকাশে ঘন কুয়াশা না থাকায় সূর্যের আলো দিনের বেলা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এতে মানুষ দিনের বেলা কিন্তু বেশি শীত অনুভব করছে না। কিন্তু শনি বা রবিবার থেকে আবারও হয়তো ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। তখন হয়তো তাপমাত্রার পারদ নিচে নামবে না কিন্তু শীতের অনুভব থাকবে।’

বছরের শীতলতম মাস জানুয়ারি : দেশের সবচেয়ে শীতলতম মাস হলো জানুয়ারি। শীতের তীব্রতাও এ মাসেই সবচেয়ে বেশি হয়। অতীতের উপাত্তে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে এসেছিল। একই এলাকায় ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি রাজশাহীতে ৩ দশমিক ১, ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রার পারদ নেমেছিল। অর্থাৎ, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার যত রেকর্ড সব এই জানুয়ারি মাসে। এবারও কি তাপমাত্রার পারদ আরও নিচে নামবে এ প্রশ্নের উত্তরে আবহাওয়াবিদদের কৌশলী উত্তর। জানুয়ারি যেহেতু শীতলতম মাস, এ মাসে স্বাভাবিকভাবেই তাপমাত্রা কম থাকবে। আর তাপমাত্রা না কমলে শীতের অনুভব কীভাবে আসবে। তাপমাত্রা কতটুকু কমবে কিংবা কোন কোন সময়ে তাপমাত্রা বেশি কম থাকবে এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, ‘আগামী শনিবারের পর তাপমাত্রা হয়তো কিছুটা স্বাভাবিক থেকে আবারও মাসের শেষের দিকে কমতে পারে। তবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

দেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতকাল হলেও জানুয়ারি মাস বছরের সবচেয়ে শীতলতম মাস। বছরের এ সময়ে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। এ সময়ে সাধারণত উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শীতল বাতাস প্রবেশ করে থাকে।