৩৬ বছর বয়সে ৩১ উইকেট নিয়ে অ্যাশেজের রাজা স্টার্ক

চলতি মাসের ৩০ তারিখে ৩৬ বছর বয়সে পা রাখবেন অস্ট্রেলিয়ার গতি তারকা মিচেল স্টার্ক। একজন পেসারের জন্য এটা অনেক বেশি বয়স। কিন্তু মাঠের পারফর্মেন্সই বলে দিচ্ছে, স্টার্কের কাছে বয়সটা শুধুই সংখ্যা। আজ শেষ হওয়া অ্যাশেজ সিরিজে ৩১ উইকেট শিকার করে জিতে নিয়েছেন সিরিজসেরার পুরস্কার। পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও করেছেন মোট ১৫৬ রান।

আজ বৃহস্পতিবার সিডনি টেস্টে ইংল্যান্ডের শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে সিরিজের ইতি টানেন এই বাঁহাতি পেসার। পার্থ থেকে সিডনি—প্রথম বল থেকে শেষ বল পর্যন্ত বুদ্ধি, গতি আর দায়িত্ববোধে সিরিজের পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন স্টার্ক। একটি অ্যাশেজ সিরিজে ৩০-এর বেশি উইকেট নেওয়া মানেই তা ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেওয়া। এর আগে মাত্র ১৬ জন অস্ট্রেলিয়ান এই কীর্তি গড়েছেন। এবার সেই অভিজাত তালিকায় নিজের নাম লেখালেন স্টার্ক।

দীর্ঘদিন ধরেই অনেকের চোখে স্টার্ক ছিলেন কখনো ভয়ংকর, কখনো বেপরোয়া, আবার কখনো চোটপ্রবণ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। এই সিরিজে তিনি শুধু গতির ওপর নির্ভর করেননি, দেখিয়েছেন নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ, সুইং আর নিখুঁত পরিকল্পনায় ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপের টুটি চেপে ধরেছিলেন। প্যাট কামিন্স, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউডের অনুপস্থিতিতে বোলিং আক্রমণের পুরো দায়িত্বই তুলে নিয়েছিলেন নিজের কাঁধে।

সিরিজজুড়েই বাইশ গজে স্টার্ক দেখিয়েছেন গতির ঝড়। শেষ স্পেল পর্যন্ত ১৪০ কিমি গতিতে বল করে গেছেন। ব্যাট হাতেও অবদান ছিল ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। ব্রিসবেনে ৭৭ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। অ্যাডিলেডে প্রথম ইনিংসে দল যখন পিছিয়ে, তখন শেষ তিন উইকেটে তার ৫৪ রান অস্ট্রেলিয়াকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যায়। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় ব্যাট করে প্রতিপক্ষকে রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছিলেন এই পেসার।

ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটির জন্য স্টার্ক হয়ে উঠেছিলেন আতঙ্ক। পুরো সিরিজে চারবার ইনিংসের প্রথম ওভারেই জ্যাক ক্রলি কিংবা বেন ডাকেটকে তিনি আউট করে দিয়েছেন। দুই ওপেনারকে সিরিজে মোট ৯ বার তিনি আউট করেছেন! যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে পরিচিত বেন ডাকেট এই সিরিজে স্টার্কের সামনে পুরোপুরি নিষ্প্রভ ছিলেন। বারবার ভালো শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন।

স্টার্ক পুরো সিরিজে জো রুটকে আউট করেছেন তিনবার, বেন স্টোকসকে পাঁচবার। তার ৩১ উইকেটের খুব অল্প অংশই এসেছে লেজের ব্যাটারদের বিপক্ষে। অর্থাৎ তিনি প্রতিপক্ষের মূল ব্যাটিং স্তম্ভগুলোই ভেঙে দিয়েছেন। ট্রাভিস হেডের ৬২৯ রান চোখে পড়ার মতো হলেও এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের প্রকৃত ভিত্তি গড়েছিলেন মিচেল স্টার্ক। যদি তিনি না থাকতেন, তাহলে পার্থ ও অ্যাডিলেড টেস্ট অস্ট্রেলিয়ার হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল ছিল, এমনকি পুরো সিরিজের চিত্রটাই ভিন্ন হতে পারত।