আসন্ন পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে স্কোয়াডে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী পেস ত্রয়ী—প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাজলউডের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্রিকেট মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। আইপিএল শেষ হওয়ার পরপরই জাতীয় দলের সিরিজ থেকে এই তারকাদের বিশ্রামে যাওয়া নিয়ে সমর্থকদের মনে তৈরি হওয়া ‘ভুল ধারণা’ এবার পরিষ্কার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড।
কোচ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্রিকেটাররা নিজেদের পছন্দে সিরিজ থেকে বিরতি নিচ্ছেন না, বরং ২০২৭ সালের একটি ‘দানবীয়’ ও ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচিকে সামনে রেখে তাদের শরীরকে সুরক্ষিত রাখতেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) মেডিকেল টিম এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া দলের সামনে ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে পরবর্তী ১২ মাসে চার মহাদেশ জুড়ে ২০টি টেস্ট (বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালসহ ২১টি), ৯টি ওয়ানডে এবং ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলার এক দমফেলানো সূচি রয়েছে। এরপরই দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য পেসারদের ফিট রাখাটাই এখন প্রধান লক্ষ্য। কোচ ম্যাকডোনাল্ড বলেন, “মানুষ কেবল সামনের ম্যাচগুলো দেখে প্রশ্ন তোলে যে কেন তারা খেলছে না। কিন্তু আপনি যদি ২০২৭ সালের সূচি থেকে উল্টো হিসাব করেন, তবে বুঝতে পারবেন তাদের শরীরকে পুনর্গঠন করার এবং দীর্ঘ মেয়াদে ফিট রাখার জন্য এটাই আমাদের কাছে শেষ বড় বিরতি। আমরা পরিকল্পনা করছি যেন ২০২৭ বিশ্বকাপে তারা সবাই সতেজ অবস্থায় থাকতে পারে।”
কোচ আরও মনে করিয়ে দেন, ২০২৩ সালেও তারা ১৯টি টেস্টের একটি বড় সূচি পার করেছিলেন। তবে এবারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো বয়স। ২০২৭ সাল নাগাদ স্টার্কের বয়স হবে ৩৭, হ্যাজলউডের ৩৬ এবং কামিন্সের ৩৪ বছর। ম্যাকডোনাল্ডের ভাষায়, “আমরা চার বছর বয়সে বড় হয়েছি, যা পেসারদের শরীর ব্যবস্থাপনায় আরও একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।”
আইপিএল খেলে দেশের হয়ে বিশ্রামে যাওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন অজি কোচ। তিনি বলেন, “একটা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে খেলোয়াড়রা বুঝি নিজেদের ইচ্ছেমতো সিরিজ বেছে বেছে খেলছে। এই সিদ্ধান্তগুলো পুরোপুরি আমাদের আগামী দিনের সূচি ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে, খেলোয়াড়রা এটা নির্ধারণ করে না। তারা তো সবসময়ই দেশের হয়ে খেলতে চায়। কিন্তু আমরা মনে করেছি, অতিরিক্ত এক মাস খেলিয়ে নিজেদের ঝুঁকিতে ফেলার এটাই উপযুক্ত সময় নয়।”
আইপিএলে অংশ নেওয়ার আগে এই তিন পেসারই পিঠ, হ্যামস্ট্রিং ও কনুইয়ের বিভিন্ন ইনজুরিতে ভুগেছেন। তাই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ শেষ হওয়ার পর তাদের কন্ডিশনিং ও স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে আগামী আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন ও ম্যাকায়ে অনুষ্ঠেয় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগে তারা লাল বলের ধকল নেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারেন।
স্পেনের বিশ্বকাপে দলে বার্সেলোনার ৮, রিয়াল মাদ্রিদের একজনও নেই 