৬৬টি আন্তর্জাতিক ও জাতিসংঘ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, দেশটি ৬৬টি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে। এই তালিকায় জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোও রয়েছে । 

হোয়াইট হাউজের একটি প্রেসিডেনশিয়াল স্মারকলিপিতে ট্রাম্প বলেছেন, যেসব সংস্থা, চুক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিপরীতে কাজ করছে তার পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ও অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাবে।

তালিকায় রয়েছে ৩৫টি নন-ইউএন সংস্থা, যেমন – ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ , ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স, এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার। এছাড়া ৩১টি ইউএন সংস্থাকেও এই পদক্ষেপের আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে – ইউএন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, ইউএন ডেমোক্রেসি ফান্ড এবং ইউএনফপিএ। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে যুদ্ধকালীন সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী রক্ষাকারী ইউএন সংস্থা। 

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, প্যারিস ক্লাইমেট চুক্তি এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষেবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিল। তবে এই সিদ্ধান্তগুলি পরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় পুনঃস্থাপন করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার কার্যকর হবে এবছর ২২ জানুয়ারি থেকে। ২০২৪–২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ২৬১ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে, যা সংস্থার মোট তহবিলের প্রায় ১৮ শতাংশ।

তবে বিশ্লেষকদের মতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিতে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ সীমিত হলেও বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় থাকবে।