হাওরে ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নাটক জন-মহাজন 

রঙ্গালয় সুনামগঞ্জ থিয়েটারের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হলো নাটক জন-মহাজন। রঙ্গালয় সুনামগঞ্জ থিয়েটারে সাধারণ সম্পাদক তামিম রায়হানের রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দেন হবিগঞ্জ সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ কলেজের উপাধ্যক্ষ ও মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন রুমি। 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসনরাজা মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় নাটকটি। অনুষ্ঠান শুরুর সাথে সাথে পাগল হাসানের গান পরিবেশনের মাধ্যমে প্রয়াত গুণী এই শিল্পীকে অনুষ্ঠান উৎসর্গ করা হয়।

নাটক শুরু হওয়ার আগে দর্শকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া এক নাটক সম্পর্কিত ভাজপত্র। ভাজপত্র থেকে জানা যায়, সমাজে মুখোশধারী ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের নীরব জুলুম ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি বলে নাট্যকার তামিম রায়হান বলেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নিজের লেখা নাটক মঞ্চে আনার সাহস নিতে সময় লেগেছে। জন-মহাজন আমার লেখা প্রথম নাটক সমাজে মুখোশধারী ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের নীরব জুলুম ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। 

তিনি আরও বলেন, এই নাটকের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা মেহেদী হাসান এটিএন নিউজের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, এফ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রঙ্গালয় সুনামগঞ্জ থিয়েটারের সভাপতি যিনি আমাকে নাটক লেখার সাহস দেন ও নিজের নাটকে অভিনয়ের ভাবনাটি সামনে আনেন। নাটকটিকে মঞ্চে পূর্ণতা দিয়েছেন শ্রদ্ধেয় নির্দেশক জালাল উদ্দীন রুমী ভাই। হাওরপাড়ের মানুষের জীবনসংগ্রাম ও প্রতিবাদের আকাঙ্ক্ষা বহন করে জন-মহাজন।

হবিগঞ্জ সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ কলেজের উপাধ্যক্ষ ও নটকের নির্দেশক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন রুমি বলেন, শিল্পমান উত্তীর্ণ থিয়েটার নির্মাণ কখনোই সম্ভব না। যথাসাধ্য চেষ্টা করা যেতে পারে। আমি সেই চেষ্টাটাই করেছি। কৃতজ্ঞতা রঙ্গালয় সুনামগঞ্জ থিয়েটারকে— তাদের পাশে থাকার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। বেশি কথা না বলে বরং থিয়েটারখানা দেখার অনুরোধ করছি। আপনার শৈল্পিক পরামর্শ এই থিয়েটার নির্মাণে আরো উজ্জ্বল ভূমিকা রাখবে।

রঙ্গালয় সুনামগঞ্জ থিয়েটারের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, আজ আমরা গর্বের সঙ্গে আয়োজন করেছি আমাদের ৯ম সাংস্কৃতিক উৎসব। এই উৎসব আমাদের বিশ্বাসের প্রতিফলন সংস্কৃতি মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেয়। সুনামগঞ্জের মাটি ও মানুষের গল্প নিয়েই আমাদের পথচলা। নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় আমরা আজ এখানে পৌঁছাতে পেরেছি। এই উৎসবের সঙ্গে যুক্ত সকল শিল্পী, সংগঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। নাটক শুধু বিনোদন নয়, নাটক দায় ও প্রতিবাদের ভাষা।

অভিনয়ে ছিলেন বাউল চরিত্রে জিৎ তালুকদার, মহাজন- তামিম রায়হান, রমিজ (চামচা)- অলিদ হাসান তানভীর, রফিক- সীমান্ত চন্দ কাব্য, মালেক- জিহান জুবায়ের, মালেকের মা- সুচনা দাস, হাসু- পুর্ণিমা শুক্লা, শিলা- তন্না দাস, ইসমাইল চুর- রুহুল, গ্রামবাসী ১-  দীপ্ত তালুকদার, গ্রামবাসী ২- প্রতীমা শুক্লা, সবজী চাষী- বিশাল দাস, মাঝি- ফারহান চৌধুরী ও আবহো সংগীতে ছিলের, সোহেল রানা, অমিত বর্মন, সৃজন চন্দ মন।

নাটক শেষে গান পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী পিয়াস, রিপন চন্দ, আতাউর রহমান আতাব, অলিদ হাসান তানভীর, পূর্ণিমা শুক্লা, অভিজিৎ তালুদার জিৎ, সৃজন চন্দ মন, দীনহীন সুমন, সঞ্জয় ধর প্রমুখ। 

অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকার সম্পাদক পঙ্কজ দে, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক খলিল রহমান, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক সুনামগঞ্জ জেলা শাখার জেনারেল ম্যানেজার গোলাম আজাদ, চ্যানেল২৪ এর নিজস্ব প্রতিবেদক এ আর জুয়েল, এনটিভির নিজেস্ব প্রতিবেদক দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম।