টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সেই সঙ্গে নামছে উজানের পাহাড়ি ঢল। এতে শঙ্কায় দিনপাড় করছে হাওরপাড়ের মানুষেরা।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি ২৭ সে.মি. নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে বিপসীমা অতিক্রম করতে পারে। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ওই সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। জগন্নাথপুর উপজেলার বালিশ্রী সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ঢলের পানি কাতিয়া, অলইতলী, পূর্ব জালালপুরসহ অন্তত ২০টি গ্রামের প্রবেশ করেছে। স্থানীয়দের বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্ধা শহিদুল জানান, বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ পানির নিচে থাকায় সাধারন জনগনের দুর্ভোগ বেড়েছে। এছাড়া হাওরের পার্শ্ববর্তী শতাধিক গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
জগন্নাথপুরের ইমন জানান, জগন্নাথপুর উপজেলার বালিশ্রী সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ৮ টি গ্রামের লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পার্শ্ববর্তী বাজারেও যেতে পারছেন না।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টপাত অব্যাহত থাকলে জেলার আরও কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন, বন্যা মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ১৩১১ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির মজুদ আছে।