পেত্রোকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং নানাবিষয়ে মতবিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। গত শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর তিক্ততা আরও বেড়েছে। এমনকি মাদুরোর মতো ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন আসুন তুলে নিয়ে যান আমাকে, আমি এখানে অপেক্ষা করছি। পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধের পর এবার ফোনে কথা বলেছেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। গত বুধবার দুই নেতার ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, হোয়াইট হাউজে পেত্রোর সফরের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সঙ্গে কথা বলা ছিল বিরাট সম্মানের। তিনি মাদক পরিস্থিতি ও অন্য যে বিষয়গুলোতে আমাদের মধ্যে মতভেদ আছে সেগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য ফোন করেছিলেন। আমি তার ফোন কল ও যেভাবে তিনি কথা বলেছেন তার প্রশংসা করি আর নিকট ভবিষ্যতে তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।

ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলে হোয়াইট হাউজে পেত্রোর সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করছেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি সেই বৈঠকের অপেক্ষায় আছেন। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সহায়তায় দুই নেতা প্রায় এক ঘণ্টা ফোনে কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তাও জানান, ফোনালাপটি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে, যা ট্রাম্প ও অন্য কোনো বিশ্বনেতার মধ্যে ফোনালাপের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ। কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে ‘ভালো একটি বৈঠক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

পেত্রো কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থি প্রেসিডেন্ট। কলম্বিয়ার সার্বভৌমত্ব উদযাপনের জন্য রাজধানী বোগোতায় আয়োজিত এক সমাবেশে পেত্রো সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, তিনি (ট্রাম্প) প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো আমরা ফোনে কথা বললাম। পেত্রো জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপে তিনি দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ফের শুরু করার অনুরোধে জানিয়েছেন। ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই বারবার পেত্রোর প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেনের অবিচ্ছিন্ন একটি প্রবাহ সক্ষম করার জন্য দায়ী করে আসতে থাকেন আর অক্টোবরে কলম্বিয়ার নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।