যুক্তরাষ্ট্র ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট। হোয়াইট হাউজ গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক প্রেসিডেনশিয়াল স্মারকলিপিতে জানিয়েছে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন একটি পর্যালোচনার পরে যেখানে দেখানো হয়েছে, ‘সংস্থা, চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী’। ট্রাম্প বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে অংশগ্রহণ বন্ধ করবে এবং একই সঙ্গে সেগুলোতে দেওয়া সমস্ত অর্থায়নও বাতিল করবে। বার্তা
সংস্থা এপি জানিয়েছে-হোয়াইট হাউজ এসব সংস্থাকে এমন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে, যেগুলোকে তারা বৈচিত্র্য ও ব্যয় কমানোর এজেন্ডার অংশ হিসেবে দেখে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এসব সংস্থা ও জোটের মধ্যে কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছিল। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত অনেক সংস্থাই জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও প্যানেল, যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম অধিকার, অভিবাসন ও সামাজিক নীতিনির্ধারণে কাজ করে। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনেসকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএসহ বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থার তহবিল কমিয়ে দেওয়া হয়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের মাধ্যমে বিদেশি সহায়তা বড় পরিসরে কমিয়ে দেয়। এর ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করা বেশ কয়েকটি জাতিসংঘ সংস্থা কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়। ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, জলবায়ু বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুি ক্ত ও বিশ্বের শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প দেশের ভেতরে জীবাশ্ম জ¦ালানির পক্ষে আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্প বারবার জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘প্রতারণা’ এবং নবায়নযোগ্য জ¦ালানিকে ‘স্ক্যাম’ বলে মন্তব্য করেছেন। হোয়াইট হাউজ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থা-জোট ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্যানেল (আইপিসিসি), জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ¦ালানি সংস্থা (আইরেনা), আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও উন্নয়ন ফোরাম, ইউএন উইমেন, ইউএন পপুলেশন ফান্ড, ইউএন এনার্জি, ইউএন ওয়াটার এবং ইউএন ইউনিভার্সিটিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ সংস্থা ও প্ল্যাটফর্ম। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বহুপক্ষীয় কূটনীতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জলবায়ু, মানবাধিকার ও উন্নয়ন খাতে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে। লক্ষ্যবস্তু করা জাতিসংঘের এই সংস্থাগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি যুদ্ধের সময় ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোকে সহিংসতা থেকে রক্ষা করার ওপর গুরুত্ব দেয়, যার মধ্যে জাতিসংঘের সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের সুরক্ষায় নিয়োজিত জাতিসংঘের শিশুদের সশস্ত্র সংঘর্ষে সুরক্ষা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির দপ্তরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হোয়াইট হাউজ থেকে আদেশ জারির এক বছর পর, ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রত্যাহার কার্যকর হতে চলেছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (ডব্লিউএইচও) ২৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করেছে, যা যক্ষ্মা এবং কভিড-১৯ এর মতো মহামারির ন্যায় বিভিন্ন জরুরি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় সংস্থাটির মোট তহবিলের প্রায় ১৮ শতাংশ। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য নিয়োজিত জাতিসংঘ সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) ওপর মার্কিন অর্থায়নের নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে, যা মূলত বাইডেন প্রশাসনের সময় শুরু হয়েছিল।