শেষ বলের নাটকীয় জয়ে প্লে-অফ প্রায় নিশ্চিত করে ফেললো কমিটির টিম

লক্ষ্যটা অনেক বড় ছিল না চট্টগ্রাম রয়্যালসের- ১২০ বলে ১২৯ রান। ওভারপ্রতি দরকার ছিল ৭ রানেরও কম। তবে চতুর্থ ও পঞ্চম ওভার মিলিয়ে মাত্র ৬ বলের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছিল চট্টগ্রাম। তবুও ১৫ ওভারে ৫ উইকেটে ৯২ রান তুলে ফেলেছিল বিসিবি নিয়ন্ত্রিত দলটি। কিন্তু পরের ৪ ওভারে তবে শেষ দিকে রিপন মণ্ডল ও তানজিম হাসানের আঁটসাঁট বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় রাজশাহী। ২৭ রান তুললেও ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে চট্টগ্রাম।

শেষ ওভারের সমীকরণ যখন ১০ রান, নাটকের অপেক্ষা করছিল সবাই। মেহেরব হোসেনের প্রথম তিন বলে ৮ রান তুললেও বাকি দুই রান তুলতে গলদঘর্ম হতে হয় হাসান নাওয়াজকে। শেষ বলে লংঅফে বল পাঠিয়ে শরিফুল ইসলামকে নিয়ে পড়িমড়ি করে দুই রান তুলে ম্যাচ জিতে নেন তিনি। নাওয়াজ অপরাজিত থাকেন ৩৬ বলে ৩৫ রানে।

দুপুরে টস হেরে বোলিং সহায়ক উইকেটে উড়ন্ত শুরু না পেলেও পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে রাজশাহী স্কোরে জমা করে ৪২ রান। ফিফটি হওয়ার আগেই হারা হারায় তিন টপ অর্ডার ব্যাটারকে। দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও ১৪ বলে ১৯ রানে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম। তানভীর ইসলামের ঘূর্ণি জাদু ব্যাটের নিচ দিয়ে সরাসরি স্টাম্পের লালবাতি জ্বালিয়ে দেয়। আউট হওয়ার আগে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরেছেন আরব আমিরাতের এই তারকা ক্রিকেটার।

তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি ছন্দে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত। ষষ্ঠ ওভারে খণ্ডকালীন হাসান নওয়াজের শিকার হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০ বলে ৭ রান। সংগ্রাম করছিলেন ওপেনার তানিজদ হাসান তামিমও। বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারলেন না, সপ্তম ওভারে আমের জামালের বলে আউট হন ১২ বলে ৫ রানে। মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহিম (১৫), এসএম মেহরব (১৯), রায়ান বার্ল (১১), আকবর আলীরা (১৭) থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন। শরীফুল ইসলাম-আমের জামালদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে ৯ উইকেটে ১২৮ রান তুলতে সক্ষম হয় রজশাহী। 

আমের জামাল ২৩ রান দিয়ে ৩টি, শরীফুল ও তানভীর ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

জবাবে পাওয়ার-প্লেতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে চট্টগ্রাম। রান তোলে ৩৪ রান। মোহাম্মদ নাঈম (৭), অ্যাডাম রোসিংটন (১৭), মাহমুদুল হাসান জয় (৪) ও সাদমান ইসলাম ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে থিতু হয়ে থাকেন হাসান নওয়াজ। অধিনায়ক শেখ মেহেদী ২৫ বলে ২৮ ও আসিফ আলির ২৫ বলে ২৭ রানে করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার স্লো স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটিই হয়ে যায় ম্যাাচসেরা। ইনিংসে ছিল মাত্র ২টি চার। দুই ওভার বল করে নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেটটিও ছিল তার। 

অলরাউন্ড নৈপূণ্যে ম্যাচ সেরা হাসান নাওয়াজ। ছবি: দেশ রূপান্তর

৭ ম্যাচে পঞ্চম জয়ে ৬ দলের এই আসরের প্লে-অফ প্রায় নিশ্চিত করে ফেললো চট্টগ্রাম রয়্যালস। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রাজশাহী ওয়ারিয়রস: ২০ ওভারে ১২৮/৯ (মেহরব ১৯, ওয়াসিম ১৯, আকবর ১৭, মুশফিক ১৫; জামাল ৩/২৩, শরীফুল ২/২০, তানভীর ২/২৬)। চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১২৯/৮ (নওয়াজ ৩৫*, মেহেদী ২৮, আসিফ ২৭; বিনুরা ৩/১৮, মেহরব ২/২৫)। 
ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ২ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: হাসান নওয়াজ।