টিউশনির টাকায় ভোট করবেন জামায়াত প্রার্থী, বিএনপির প্রার্থী কোটিপতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোক্তার আলী টিউশন থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে নির্বাচন করবেন। পাশাপাশি মেয়ে ও দুই ছেলের কাছ থেকে টাকা ধার নেবেন। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকার তিনজন তাকে স্বেচ্ছায় দেবেন ১২ লাখ টাকা। বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ নির্বাচনের পুরো ব্যয় বহন করবেন নিজ অর্থে। তিনি নিজের ব্যবসা থেকে অর্জন করা ২৫ লাখ টাকা খরচ করবেন নির্বাচনে। এ দুই প্রার্থী নির্বাচনের হলফনামা ও আয়-ব্যয় বিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় নিজের ও পরিবারের আয়-ব্যয় এবং সম্পদের  বিবরণ দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ। হলফনামা অনুযায়ী, তার বর্তমান আনুমানিক মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৭ টাকা।

তার বার্ষিক আয়ের বড় অংশ আসে শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে। ব্যবসা থেকে তার আয় দেখানো হয়েছে ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৬ টাকা। এ ছাড়া বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে ভাড়া বাবদ আয় রয়েছে ১৫ লাখ ১৬ হাজার ৮০৬ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের তালিকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা অর্থ, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, মোটরযান, স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবের তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীর নামে ব্যাংকে জমা রয়েছে ১৮ লাখ ৫৮ হাজার ২০৬ টাকা, তার স্ত্রীর নামে আছে ১ কোটি ৩০ লাখ ৯১ হাজার ৬০৫ টাকা। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ রয়েছে, ৭৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪ টাকা। এ খাতে তার স্ত্রীর বিনিয়োগ রয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ২১ হাজার ৯৭০ টাকা। তার দুটি কার, একটি মাইক্রোবাস ও একটি জিপ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য ৪ লাখ ২২ হাজার ৮৯০ টাকা এবং আসবাবের মূল্য ৫ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ও রেমিট্যান্স মিলিয়ে অন্যান্য খাতে সম্পদের মূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ৩১৫ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে অকৃষি জমিতে বিনিয়োগের অর্জনকালীন মূল্য ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে যৌথ মালিকানা রয়েছে ৫০ শতাংশ। সব মিলিয়ে নিজ নামে স্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯১ হাজার টাকা। প্রার্থী ও তার পরিবারের নামে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মোক্তার আলীর কৃষিজমি আছে মাত্র ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। এর মধ্যে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি রয়েছে ২৫ দশমিক ৫০ শতক। বাকি ৩ দশমিক ৩২ শতক ক্রয় করা। আর ৭ দশমিক ৫ শতক জমিতে আছে একটি বাড়ি। ব্যবসা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, অ্যাপার্টমেন্ট, চাকরি কিছুই নেই। ঘরে ৫০ হাজার টাকা মূল্যমানের ফ্রিজ ও ওভেন, ৩০ হাজার টাকা মূল্যমানের ৪টি খাট, সোফা, আলমারি, বুক সেলফ ও শোকেজ রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এক সময় তিনি অধ্যাপনা করলেও এখন টিউশনি করেন বলে জানিয়েছেন।