মিয়ানমারে নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ

মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যেই রবিবার (১১ জানুয়ারি) সামরিক বাহিনী পরিচালিত নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই নির্বাচনকে জান্তা শাসন পাকাপোক্ত করার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।  

ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার উৎখাতের পর থেকেই দেশটি ভয়াবহ সংঘাতে জর্জরিত। তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সহ জান্তাবিরোধী বহু রাজনৈতিক দল বাতিল করা হয়েছে, আর সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে।

এ পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে। প্রথম ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ১০২টি নিম্নকক্ষ আসনের মধ্যে দলটি ৯০টি আসনে জয় পেয়েছে, যদিও ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৫২ শতাংশের একটু বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বাসযোগ্য বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতি ও কঠোর নির্বাচন আইন থাকায় ফলাফল আগেই নির্ধারিত ছিল।

নির্বাচনের শেষ ধাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা পঁচিশ জানুয়ারি। দেশটির ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২৬৫ টাউনশিপে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এলাকাও রয়েছে।  

সামরিক সরকার দাবি করছে, এই নির্বাচন দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। তবে জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশগুলো ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে মানতে নারাজ। অভ্যুত্থানের পর থেকে সহিংসতায় অন্তত ষোল হাজার ছয়শ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ছত্রিশ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ফলে জান্তা-নিয়ন্ত্রিত কোনো সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়ে গেছে।