মিয়ানমারের প্রভাবশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী রেস্টোরেশন কাউন্সিল অব শান স্টেট (আরসিএসএস)-এর চেয়ারম্যান জেনারেল ইয়দ সের্ক অভিযোগ করেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সামরিক জান্তার বাড়তে থাকা প্রাণঘাতী বিমান হামলার বিষয়টি বিশ্ব নেতারা উপেক্ষা করছেন। তার দাবি, চলমান সংঘাতে কার্যত একমাত্র চীনই হস্তক্ষেপ করছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে আছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন এটি উপেক্ষা না করে।' তার মতে, গত ১৫ মাসে ১,০০০-এর বেশি বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে এসব হামলায় অন্তত ১,৭২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে জান্তা দাবি করে, তারা 'সন্ত্রাসীদের' লক্ষ্য করেই অভিযান চালাচ্ছে।
সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর থেকেই দেশটি সংঘাতে জর্জরিত। সম্প্রতি সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত জান্তা-সমর্থিত নির্বাচনে সামরিক ঘনিষ্ঠ একটি দল বিজয়ের দাবি করেছে। জাতিসংঘ ও অধিকার সংস্থাগুলো এ নির্বাচনকে সামরিক শাসন পাকাপোক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে সমালোচনা করেছে।
শান ন্যাশনাল ডে উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে ইয়ওদ সের্ক সামরিক নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতা ও অহংকারই দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে যুদ্ধের অবসানে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।
চীনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'মিয়ানমারে হস্তক্ষেপ করছে একটি দেশ-চীন, এবং শুধু চীন।' যদিও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারে শান্তি ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে।
শান রাজ্য, যা চীন ও থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী এবং গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, সেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর স্বার্থ ও জোটবদলের রাজনীতি সংঘাতকে আরও জটিল করেছে। ইয়ওদ সের্ক বলেন, জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আস্থা গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে একটি ফেডারেল সেনাবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি।
