তবুও ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে যখন ভারত–বাংলাদেশ ক্রিকেটীয় সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্যে, ঠিক সেই সময়েই ভারতের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। 

রবিবার ভাদোদারার বিসিএ স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ভারত–নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টিভি আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন শরফুদ্দৌলা। মূল আম্পায়ার হিসেবে মাঠে ছিলেন ইংল্যান্ডের রিচার্ড ইলিংওর্থ ও ভারতের কেএন আনান্থাপাদ্মানাভান। বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যখন নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তখন একই সময়ে একজন বাংলাদেশি আম্পায়ারের ভারতে উপস্থিতি অনেকের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।

এ বিষয়ে বিসিবি পরিষ্কার অবস্থান জানিয়েছে। বিসিবির আম্পায়ার্স বিভাগের চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন, শরফুদ্দৌলা বর্তমানে ভারতে আছেন আইসিসির চুক্তিভিত্তিক আম্পায়ার হিসেবে। ফলে তার ভারতে দায়িত্ব পালনে বিসিবির কোনো অনুমতি বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রয়োজন হয়নি, “শরফুদ্দৌলা আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার। তিনি আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নন। আইসিসির কোনো দায়িত্ব এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তিনি আমাদের কাজ থেকে ছুটিতে চলে যান। এখানে অনুমতি দেওয়ার বা না দেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই।”

সম্প্রতি শেষ হওয়া অ্যাশেজ সিরিজের ব্রিজবেন টেস্টেও শরফুদ্দৌলা ছিলেন মূল আম্পায়ার। সেখান থেকে ফিরে বিপিএলেও আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন শরফুদ্দৌলা। গত বৃহস্পতিবার নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ পরিচালনার তিন দিনের মাথায় আইসিসির ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি চলে যান ভারতে। 

৪৯ বছর বয়সী শরফুদ্দৌলা বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক আম্পায়ারদের একজন। আইসিসির এলিট প্যানেলের এই সদস্য এখন পর্যন্ত ৩২টি টেস্ট, ১১৮টি ওয়ানডে ও ৭৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন। পাশাপাশি ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০১৭ ও ২০২১ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১৮ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।