গাইবান্ধায় এসিল্যান্ড হত্যার বিচার দাবিতে সমাবেশ

এসিল্যান্ড অবিদীয় মার্ডির হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাসিতলা এলাকায় গতকাল রবিবার এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে একটি মিছিল বের হয়ে ফাসিতলা এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়। গোবিন্দগঞ্জ অবিদীয় মার্ডি স্মৃতিরক্ষা কমিটি এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাবেশের শুরুতে শহীদ অবিদীয় মার্ডির প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাক্সে। বক্তব্য দেন নিহত অবিদীয় মার্ডির স্ত্রী শেফালি চড়ে, ভাতিজি হ্যাপি মার্ডি, হীরা মুরমু, সংগঠনটির সদস্য ব্রিটিশ সরেন, আনিসুর রহমান, শারমিন মার্ডি, সাহেব মুরমু প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের পরিকল্পনায় অবিদীয় মার্ডিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকা-ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার কথা। অথচ তা না হওয়ায় বিচারের দাবি নিয়ে ১১ বছর ধরে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন স্বজনরা।

প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি অবিদীয় মার্ডি নিজ বাড়ি নওগাঁর ধামুইরহাট থেকে মোটরসাইকেলযোগে কর্মস্থল গোবিন্দগঞ্জ অফিসে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উপজেলার সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম আখ খামারের কাটা-ফাসিতলা সড়কের মাঝামাঝি পৌঁছলে তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা। এরপর তাকে আখ খামারের ভেতরে নিয়ে গিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রেখে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। 

এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধার তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকসহ ১৩ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন নিহতের বড়ভাই ফাদার স্যামসন মার্ডি। কিন্তু দীর্ঘ ১১ বছরেও বিচারকাজ শেষ হয়নি ।

অবিদীয় মার্ডির ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের আয়োজনে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন  গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা, অবিদীয় মার্ডির স্ত্রী শেফালি চড়ে, কন্যা সুইটজিল মার্ডি প্রমুখ।