জাতীয় সংসদ নির্বাচন

জাপা-এনডিএম প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল প্রশ্নে রুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের), জাতীয় পার্টি (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ) ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল প্রশ্নে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল দেয়।

রুলে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) ও জেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএফের প্রার্থীদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে জবাব দিতে বলেছে আদালত। গত ৪ জানুয়ারি ভোলা জেলার বাসিন্দা ও জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ এ রিট আবেদনটি করেন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টির জিএম কাদেরের অংশ। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি (আনিসুল ইসলাম) ও জেপির নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে নতুন রাজনৈতিক জোট এনডিএম। তারা গত ২৩ ডিসেম্বর ১১৯ আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর ঘোষণা করেছে। গত বছরের ১২ মে অন্তর্বর্তী সরকার এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।

ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, তাদের সহযোগী সংগঠন, অঙ্গসংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনও নিষিদ্ধ থাকবে। ভ্রাতৃপ্রতিম মানে হচ্ছে ১৪ দল। এই ১৪ দলের জোটে জাতীয় পার্টিও আছে, যারা নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। সে হিসেবে জাতীয় পার্টিও নিষিদ্ধের পর্যায়ে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন হলো, নিষিদ্ধরা কীভাবে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে এবং কীভাবে এই মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে রুল দিয়েছে।’