এক বিপিএলেই তিন হ্যাটট্রিক বাংলাদেশি পেসারদের

সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে নাটকীয় এক শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক করে আলোচনায় উঠে এলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের তরুণ পেসার রিপন মণ্ডল। তার দুর্দান্ত শেষ ওভারের ধাক্কায় ১৯ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৮ রান থেকে মাত্র তিন রানের ব্যবধানে অলআউট হয়ে যায় ঢাকা ক্যাপিটালস। ঢাকার ইনিংস থামে ১৩১ রানে।

শেষ ওভার শুরু হয়েছিল ঢাকার সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১২৮ রান নিয়ে। বল হাতে নেন রিপন মণ্ডল, যিনি এর আগে তিন ওভারে ২৮ রান দিয়েছিলেন। ওভারের প্রথম তিন বলে মাত্র তিন রান দেন তিনি। চতুর্থ বলে বড় শটের চেষ্টা করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন সাব্বির রহমান। পরের বলে জিমি নিশামের হাতে ক্যাচ দেন জিয়াউর রহমান শরিফি। আর হ্যাটট্রিক বলেই তাইজুল ইসলামকে বোল্ড করে উল্লাসে মাতেন রিপন। শেষ তিন বলে তিন উইকেট হারিয়ে ঢাকার ইনিংস ভেঙে পড়ে।

এর আগে ইনিংসের শুরুটা ছিল ঢাকার জন্য বেশ আশাব্যঞ্জক। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান তোলে মোহাম্মদ মিঠুনের দল। তবে সপ্তম ওভারে বোলিংয়ে এসে আবদুল গাফফার সাকলাইনের জোড়া আঘাতের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ঢাকা। শেষ ১৪ ওভারে মাত্র ৬৭ রান তুলতেই হারায় ১০ উইকেট।

ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন পাকিস্তানি ওপেনার উসমান খান, খেলেন ২৭ বল। তার ইনিংসের পর আর কেউ বড় অবদান রাখতে পারেননি।

এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে চলতি বিপিএলে মেহেদী হাসান রানা ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুনের পর তৃতীয় বোলার হিসেবে কীর্তিতে নাম লেখালেন রিপন মণ্ডল। একই সঙ্গে এটি বিপিএল ইতিহাসের ১১তম হ্যাটট্রিক। এই ১১টি হ্যাটট্রিক করেছেন মোট ১০ জন বোলার। একমাত্র বোলার হিসেবে দুটি হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব আছে মৃত্যুঞ্জয়ের, যিনি প্রথমটি করেন ২০২২ বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে।

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের বোলারদের ১১তম হ্যাটট্রিক। এই তালিকায় মোট ৯ জন বোলার রয়েছেন, যেখানে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন ও আল আমিন হোসেন দু’জনই দুটি করে হ্যাটট্রিক করেছেন।