কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ (২২) নামে এক যুবকের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকার নাফ নদীতীরবর্তী চিংড়ি ঘের প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে।
আহত হানিফ ওই এলাকার ফজল করিমের ছেলে এবং লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, তিনি নিজের চিংড়ি ঘের দেখতে গিয়ে নদী তীরে পোঁতা মাইনে পা দেন। বিস্ফোরণে তার একটি পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তিনি নদীতে ছিটকে পড়েন। পরে স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। এদিকে, এর আগের দিন রবিবার একই এলাকার লম্বাবিল তেচ্ছিব্রীজে হুজাইফা সুলতানা (৯) নামে এক শিশু সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে আহত হয়। শিশুটি জসিম উদ্দিনের মেয়ে এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনাগুলোর প্রতিবাদে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গতকাল সকালে হোয়াইক্যং লম্বাবিল এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। কেউ কেউ সড়ক অবরোধও করেছেন। বক্তারা সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার, সংশ্লিষ্ট বাহিনীর আরও তৎপরতা এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
টেকনাফ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জুনাইদ আলী চৌধুরী বলেন, প্রতিনিয়ত মাইন ও গুলিতে সীমান্তবাসী আহত হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জেলে ও মৎস্যচাষিরা নাফ নদী বা ঘেরে যেতে পারছেন না। এতে অনেক পরিবার অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে।
তিনি সরকারের কাছে সীমান্ত সুরক্ষা ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ধরনের ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন।