জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে রেস্তোরাঁ খাত

গ্যাসের তীব্র সংকটে কারণে বিপাকে পড়েছে রেস্তোরাঁ খাত। একদিকে লাইনের গ্যাসের চাপ নেই, অন্যদিকে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি দামে। এতে বেড়েছে রেস্তোরাঁর খাদ্যের দাম। বাড়তি দামের কারণে রেস্তোরাঁগুলো হারাচ্ছে গ্রাহক। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। এ সময় সংগঠনের সভাপতি ওসমান গনি, মহাসচিব ইমরান হাসানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ইমরান হাসান।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হোসেন জানান, গত ডিসেম্বর মাস থেকে সারা দেশে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে, যা এখনো পর্যন্ত বর্তমান সরকার কার্যকরভাবে সমাধান করতে পারেনি। দেশে এখন লুটেরা, সাম্রাজ্যবাদীরা এখন এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা করছে। তারা

কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বেশিরভাগ রেস্তেরাঁ গ্যাস পাচ্ছে না। যারা কিনছে, তারা ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেছে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনে রান্না করতে গিয়ে রেস্তোরাঁগুলোর ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কারণ রেস্তোরাঁর খরচের ২০ শতাংশ বা তারও বেশি ব্যয় হয় জ¦ালানিতে। এর ফলে খাবারের দাম বাড়াতে হচ্ছে। এতে গ্রাহক হারাচ্ছে রেস্তোরাঁ মালিকরা এবং বাড়ছে লোকসান। তাই অবিলম্বে তিতাসকে কার্যকর করা, গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং আবাসন ও রেস্তোরাঁ খাতে পুনরায় প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি জানাচ্ছি।

এ ছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির সিন্ডিকেট চিহ্নিত করার পাশাপাশি যারা বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এলপিজির দাম সহনীয় পর্যায়ে না এলে রেস্তোরাঁ বন্ধের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে মালিকরা। যার ভোগান্তি পড়বে কর্মজীবী সাধারণ মানুষের ওপর।

রেস্তোরাঁ মলিক সমিতি জানায়, প্রতিদিন অন্তত ৪ কোটি মানুষ হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে খাবার খায়। এ খাতে ৩০ লক্ষ কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই কোটি মানুষ জড়িত।

সংগঠনটি জানায়, বর্তমান বাজারে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁ খাতে। এসব কারণে দেশের রেস্তোরাঁ খাত গভীর সংকটময় সময় অতিক্রম করছে বলেও দাবি করেছে ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটি।