ভারতীয় সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম ভারতের বিরুদ্ধে নয়

দুই পারমাণবিক শক্তিধর চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমান্তে উত্তেজনা লেগেই আছে। মাঝেমধ্যে সংঘাতও হয়। একই সঙ্গে পাকিস্তান ও চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বেশ সক্রিয় রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ভারত বাংলাদেশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে, এটা সবার জানা। তবে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী মনে করেন, বাংলাদেশে সশস্ত্র তিন বাহিনী যেসব কার্যক্রম চালাচ্ছে, তার কোনোটিই ভারতের বিরুদ্ধে নয়।

গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ভারতীয় বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ কথা তুলে ধরা হয়।

জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, ভারত বাংলাদেশ পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারপরও ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের তিন বাহিনীর যোগাযোগ চ্যানেল খোলা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক যোগাযোগব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং আমি সেখানে তাদের প্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’

ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, একইভাবে অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমেও যোগাযোগ চলছে। সেখানে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছিল, যারা মাঠপর্যায়ের সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। একইভাবে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানরাও কথা বলেছেন। উদ্দেশ্য একটাই, যাতে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল যোগাযোগ না হয়।

সেনাপ্রধানকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের যে নতুন সমীকরণ, সেটা ভারতের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী বিষয়টি কীভাবে দেখছে? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবার আগে বুঝতে হবে বাংলাদেশে কী ধরনের সরকার রয়েছে। যদি এটি একটি অন্তর্র্বর্তী সরকার হয়, তাহলে দেখতে হবে তারা যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে, সেগুলো আগামী চার-পাঁচ বছরের জন্য, নাকি চার-পাঁচ মাসের জন্য। সেই অনুযায়ী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন আছে কি না, তা বিচার করতে হবে।

বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভারত এটি করছে; আবার অন্য দেশগুলোও করছে।

পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি সংস্কার ভারতে : বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলের বেশ কিছু পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। দেশটির সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ ও নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর অদূরে রংপুরের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, এই ঘাঁটিটি তাদের জাতীয় প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে, তবে ভারতীয় পক্ষ এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভারত ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, বিহারের কিষানগঞ্জ এবং আসামের ধুবরিতে তিনটি নতুন সেনা ঘাঁটি স্থাপন করেছে। পরিত্যক্ত যেসব বিমানঘাঁটি সংস্কারের তালিকায় রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবরি। কোচবিহার এবং আসামের কোকড়াঝাড় জেলার রূপসী বিমানঘাঁটি সচল করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এএআই) পশ্চিমবঙ্গের বিমানঘাঁটিগুলো ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে।