সত্যিই কি পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ক্রিকেটারের ভিসা বাতিল করেছে ভারত?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার আলি খানের একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়। অনেকেই দাবি করেন, আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন ক্রিকেটারদের ভারত ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে ভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এখনো কোনো ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি এবং বিষয়টি নিয়মিত প্রশাসনিক পর্যালোচনার মধ্যেই রয়েছে।

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্র দলের চার ক্রিকেটার—আলি খান, শায়ান জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মহসিন ও এহসান আদিল বর্তমানে ভিসা ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা সবাই ১৩ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত হন। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শেষ ধাপে যুক্তরাষ্ট্র দল বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছে।

ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে আইসিসির সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, চারজন ক্রিকেটারই নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় তাদের জানানো হয়, এই মুহূর্তে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় ভারতীয় দূতাবাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র দলের ম্যানেজমেন্টকে ফোন করে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় তথ্য তারা পেয়েছেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আরও কিছু অনুমোদন বাকি রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য তাদের জানানো হবে।

কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এটিকে কোনোভাবেই ভিসা প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে, তারা যে দেশের নাগরিকই হোন না কেন বা যে দলেই খেলুন না কেন, এ ধরনের আবেদন সাধারণত বিশেষ শ্রেণির পর্যালোচনার আওতায় পড়ে। অতীতেও ভারতে সফরের সময় মঈন আলী, শোয়েব বশির ও উসমান খাজাহর মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের একই ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় আলি খানের একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি থেকে, যেখানে তিনি লেখেন, ‘ভারতের ভিসা বাতিল, কিন্তু কেএফসি জয়ের আনন্দ।’ তার ওই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অনলাইনে নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে বিষয়টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, আবেদনগুলো এখনো সক্রিয় (অ্যাকটিভ) রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে একাধিক দপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সম্মতিও অন্তর্ভুক্ত।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একই নিয়ম সব অংশগ্রহণকারী দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, ওমান ও ইতালির দলগুলোতেও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার রয়েছেন এবং তাদের ক্ষেত্রেও একই ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া আলি খান যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ১৫টি ওয়ানডে ও ১৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক হারের ম্যাচেও তিনি দলের অংশ ছিলেন।