নিজেকে এখনো ‘তরুণ’ ভাবা হ্যাজলউড বিশ্বকাপের জন্য কতটা প্রস্তুত?

বয়স পেরিয়ে গেছে ৩৫, তবু নিজেকে এখনো তরুণ ভাবেন অস্ট্রেলিয়ার পেস তারকা জস হ্যাজলউড। বাইশ গজে তার পারফর্মেন্স দেখলে তারুণ্য নিয়ে অবিশ্বাসের কোনো কারণ নেই। বর্তমানে চোটের সঙ্গে লড়াই করা এই পেসারের লক্ষ্য আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য আসরের আগে তিনি নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ ফিট হয়ে উঠবেন বলে আশাবাদী।

চোটের কারণে সদ্য শেষ হওয়া অ্যাশেজ সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেও বিশ্বকাপ সামনে রেখে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। হ্যাজলউড হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর পুনর্বাসনের সময় অ্যাকিলিস সমস্যায় আক্রান্ত হন। এসব কারণে জানুয়ারির শেষ দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ কিংবা বিগ ব্যাশ লিগের শেষ ভাগেও তাকে পাওয়া যাবে না। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার লক্ষ্য রয়েছে তার।

বিশ্বকাপ সূচিও হ্যাজলউডের পক্ষে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচ ১১ ফেব্রুয়ারি, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ফলে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার জন্য বাড়তি সময় পাচ্ছেন তিনি। নির্বাচক প্রধান জর্জ বেইলি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে প্যাট কামিন্সকেও বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। তাহলে একসঙ্গে একাধিক খেলোয়াড়কে টুর্নামেন্টের শুরুতে না পাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে না অস্ট্রেলিয়া।

চোটের পুনরাবৃত্তি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেল টিমের সঙ্গে কাজ করছেন হ্যাজলউড। বিশেষ করে সাইড ইনজুরির পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হ্যাজলউড বলেন, ‘সবকিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। টেস্ট ম্যাচগুলো খেলতে না পারায় পুনর্বাসনে বাড়তি কয়েক সপ্তাহ সময় পাওয়া আগেছে। সম্প্রতি অর্ধেক রান-আপে বোলিং শুরু করেছি। দৌড়ানো, শক্তি বাড়ানোর অনুশীলন—সবই ভালোভাবে এগোচ্ছে।’

২০২০-২১ মৌসুমের পর থেকে চোট ছাড়া খুব কম সময়ই কাটাতে পেরেছেন হ্যাজলউড। ২০২৩ সালের অ্যাশেজ থেকে ২০২৪-২৫ মৌসুমের ভারত সিরিজের শুরু পর্যন্ত টানা দশটি টেস্ট খেললেও পরে কাফ ও সাইড স্ট্রেইনের কারণে সেই ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। তার আগে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর মিলিয়ে এক মাসে চারটি টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক হ্যামস্ট্রিং চোটকে তিনি দুর্ভাগ্যজনিত বলেই দেখছেন।

হ্যাজলউড বলেন, ‘কখনো কখনো এমন হয়—একটা সমস্যা কাটতে না কাটতেই আরেকটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ওটা [গোড়ালির চোট] আসলে গত কয়েক বছর ধরেই আমি কোনোভাবে সামলে আসছিলাম, আর তারপর ধীরে ধীরে সেটা আবার দেখা দেয়। আমার মনে হয়, যখন আবার নতুন করে শুরু করেন, তখন অনেক সময় শরীর থেমে যাওয়ার পর আবার গতি পেতে পছন্দ করে না। তাই এই দুইটা ছোটখাটো সমস্যাকে খুব আলাদা করে বড় কিছু হিসেবে দেখছি না।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর হ্যাজলউডের লক্ষ্য থাকবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএল খেলা। সাদা বলের সঙ্গে লাল বলের প্রস্তুতির পার্থক্য করতে গিয়ে জানুয়ারির শুরুতে ৩৫ বছরে পা দেওয়া হ্যাজলউড মজা করে বলেন, ‘আমি এখনো নিজেকে তরুণই মনে করি। (তবে) আমি বাস্তববাদীও। আমার মনে হয় সবচেয়ে কঠিন বাধা হলো (সিরিজের) প্রথম টেস্টটা। সেটা যদি পার হতে পারেন, তাহলে ধারাবাহিকতা আসতে পারে। কিন্তু যদি টানা অনেকগুলো খেলেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। তখন হয়তো একটা ম্যাচ বিশ্রাম নিতে হয়।’