চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) গত দেড় বছরে ব্যাপক নিয়োগ নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন সমাজ ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের চেতনাকে উপেক্ষা করে বর্তমান প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ছাত্রদলের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত চাহিদা না থাকলেও গত ১৫ মাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে আরও ৩০৪টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চালু রাখা হয়েছে। এতে মোট ৫৫৪ জনের নিয়োগ কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
নিয়োগে অনিয়মের সবচেয়ে আলোচিত দৃষ্টান্ত হিসেবে ছাত্রদল উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহীরা শামীমের ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগের প্রসঙ্গ তোলে। সংগঠনটির ভাষ্য, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করে ১৯ ডিসেম্বর ওই নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়।
ছাত্রদলের অভিযোগে বলা হয়, ফিন্যান্স বিভাগের চারটি প্রভাষক পদের বিপরীতে ৫১ জন আবেদন করলেও বহু যোগ্য প্রার্থীকে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ডাকযোগে পরীক্ষার তারিখ জানানোয় অনেক আবেদনকারী সময়মতো অবগত হতে পারেননি। মাত্র ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়, যার প্রশ্ন নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরাই তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করেন। পরীক্ষা শেষের দিনই ফল প্রকাশ করা হলেও কেবল নির্বাচিতদের নাম জানানো হয়; প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভাগের মেধাতালিকায় দ্বাদশ অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও উপ-উপাচার্যের কন্যাকে একাদশজন যোগ্য প্রার্থীকে টপকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অন্যান্য বিভাগেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ছাত্রদল জানায়, ফিন্যান্স বিভাগের এক শিক্ষকের সন্তানের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগে নিয়োগ, বাংলা বিভাগে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও একাধিক পদের বিজ্ঞপ্তি এবং ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে পরিকল্পনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশ হলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে দাবি করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো—
- স্পষ্ট অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ।
- উপ-উপাচার্যের কন্যাসহ সব বিতর্কিত ও অবৈধ নিয়োগ বাতিল।
- ইউজিসির নির্দেশ অমান্য করে নিয়োগ বোর্ড পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
- বিভাগীয় আপত্তি উপেক্ষা করে দেওয়া সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, এসব দাবি মানা না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বার্তা প্রেরক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— মো. জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।