টমাস টুখেলকে কোচ হিসেবে চায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

রুবেন আমোরিমের হঠাৎ বিদায়ের পর দলের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতে মৌসুম শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ক্লাবের সাবেক তারকা মাইকেল ক্যারিক। বর্তমানে ক্লাবটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একজন স্থায়ী কোচ খুঁজে পাওয়া, যিনি আবারও ইউনাইটেডকে সাফল্যের পথে ফেরাতে পারবেন।

বর্তমান বাজারে যত কোচই থাকুন না কেন, সব দিক বিবেচনায় টমাস টুখেলকেই ইউনাইটেডের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। এরিক টেন হাগকে সরানোর আগে ২০২৪ সালের গ্রীষ্মেই টুখেলের সঙ্গে কথা বলেছিল ইউনাইটেড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডাচ কোচের চুক্তি বাড়ানো হয়, যা এখন অনেকের কাছেই ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বিবেচিত। আবার শোনা যায়, টুখেল তখন রাজি হননি।

টুখেল কেন ‘না’ বলেছিলেন, তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। কেউ বলছেন, তিনি এমন কাঠামোতে কাজ করতে চাননি যেখানে ট্রান্সফার নীতিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। আবার কেউ মনে করেন, বায়ার্ন মিউনিখে অত্যন্ত চাপের সময় পার করার পর তিনি কিছুটা বিরতি চাইছিলেন। চার মাস পর টুখেল ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তার দায়িত্ব নেওয়ায় পর এই তার ‘না’ বলার কারণ বোঝা গিয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে ইউনাইটেড দুইজন স্থায়ী কোচ ও তিনজন অন্তর্বর্তী কোচ বদলালেও ক্লাবের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে খুব কম কোচই আছেন, যিনি দ্রুত পরিস্থিতি বদলাতে পারেন। টুখেল তাদের অন্যতম। ইয়ুর্গেন ক্লপের উত্তরসূরি হিসেবে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের দায়িত্ব নিয়ে দলকে জার্মান কাপ জিতিয়েছিলেন। এছাড়া বুন্ডেসলিগায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন।

পিএসজিতে টানা দুইবার লিগ শিরোপা জয় ছাড়াও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠেন। চেলসির দায়িত্ব নিয়ে মাত্র চার মাসের মধ্যে জেতেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। বায়ার্ন মিউনিখে বুন্দেসলিগা হারালেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সেমিফাইনালের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান। টুখেলের বড় শক্তি তার ট্যাকটিক্যাল ফ্লেক্সিবিলিটি। খেলার মাঝেই দলের গঠন বদলে ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনার ক্ষেত্রে তাকে পেপ গার্দিওলার পরেই সেরা হিসেবে ধরা হয়।

ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে সমালোচনার মুখে দারুণভাবে টিকে আছেন টুখেল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত সব ম্যাচ জিতে, একটি গোলও না খেয়ে রেকর্ড গড়েছে ইংল্যান্ড। তিনি প্রমাণ করেছেন, তার কাছে তারকা পরিচয়ের চেয়ে পারফরম্যান্সই মুখ্য। তবে টুখেল সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে কোথাও থাকেন না। ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় নিজেই মজা করে বলেছিলেন, ‘আমি আমার লং-টার্ম গেমটা নিয়ে কাজ করছি।’

টুখেল ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ডের সঙ্গে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইংল্যান্ডের কোচকে ক্লাব ফুটবলে টানার চেষ্টা করলে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে পারে ইউনাইটেড। ইংল্যান্ড যদি বিশ্বকাপে ব্যর্থ হয়, মিডিয়া ও সমর্থকরা সহজেই বলে দিতে পারে, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই দলের দিকে মনোযোগ দিতে পারেননি টুখেল।

এ বিষয়ে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ার বলেন, ‘এই দুষ্টচক্র থামাতে হলে কঠিন চরিত্রের একজন মানুষকে এনে তাকে কাজটা করতে দিতে হবে। শীর্ষ ক্লাবগুলো দেখুন— অ্যাস্টন ভিলা, ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনালে কোচই মূল চালিকাশক্তি। স্যার জিম র‍্যাটক্লিফকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি কি সবকিছু নিজের হাতে রেখে ডুবন্ত জাহাজের ক্যাপ্টেন থাকতে চান, নাকি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে এমন একজন কোচকে আনবেন, যিনি ইউনাইটেডকে আবার শিরোপার লড়াইয়ে ফেরাতে পারেন।’