মায়ামির ভ্যাপসা গরম আর চরম আর্দ্রতা। শনিবার রাতের লড়াইয়ে কেবল নরওয়ের বিপক্ষে নয়, প্রকৃতির প্রতিকূলতার বিরুদ্ধেও লড়তে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। ১২২ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ২-১ গোলের জয় নিয়ে যখন পুরো স্টেডিয়াম উদ্বেলিত, তখন ডাগআউটে দাঁড়ানো টমাস টুখেলের চোখেমুখে ছিল অন্যরকম আভা। দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন ঠিকই, কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে কোচ টুখেল যে মোটেও সন্তুষ্ট নন। ম্যাচ-পরবর্তী যেই প্রতিক্রিয়ায় ছিল স্পষ্ট।
আজতেকার প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যে জুড বেলিংহাম অবিশ্বাস্য জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে নকআউট পর্বে পথ দেখিয়েছিলেন, মায়ামিতেও তিনি ছিলেন দলের ত্রাতা। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা দলকে ম্যাচে ফেরানো এবং অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে জয়সূচক গোলটি করে বেলিংহাম যেন ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার সেই একক বীরত্বের স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন।
তবে দলের এই জয়গাথা কোচ টুখেলকে খুব একটা আচ্ছন্ন করতে পারেনি। ম্যাচ শেষে সরাসরি বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ফলাফলটি দুর্দান্ত, আমরা শেষ চারে পৌঁছেছি। কিন্তু পারফরম্যান্সের বিচারে আমি আজকের খেলায় বিন্দুমাত্র তৃপ্ত নই। আমরা নিজেদের কাজ নিজেরাই কঠিন করে ফেলেছি। খেলায় প্রচুর টেকনিক্যাল ভুল ছিল, গতি ছিল না এবং রক্ষণভাগ ছিল অগোছালো। আজকের দিনটি আমাদের জন্য ছিল স্রেফ ভাগ্যের সহায়তা।’
টুখেলের এই কঠোর সমালোচনা অবশ্য ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ফুটবলারদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। অ্যালান শিয়ারার বলেন, ‘টুখেল যে এমন সাহসের সঙ্গে পারফরম্যান্সের সমালোচনা করেছেন, তার কৃতিত্ব তাকে দিতেই হবে। তিনি কোনো অজুহাত দাঁড় করাননি।’ ওয়েইন রুনিও কোচের সাথে সুর মিলিয়ে বলেন, ‘মানসিকতার প্রশ্নে টুখেল শতভাগ সঠিক। ম্যাচে দীর্ঘ সময় নরওয়ে আমাদের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলেছে, কিন্তু ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের জেদ ও চরিত্র তাদের এই জয় এনে দিয়েছে।’
পুরো টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড যেভাবে ধুঁকে ধুঁকে এগিয়েছে, তাতে অনেকেরই প্রশ্ন, কেবল মানসিকতা দিয়ে কি আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জেতা সম্ভব? দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তাই টুখেল পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, খেলোয়াড়দের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা থাকলেও তিনি মানদণ্ড কমাতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি, কিন্তু আমরা আরও ভালো খেলার সামর্থ্য রাখি। এখনও অনেক কিছু শুধরে নেওয়ার আছে।’
এই আসরে বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন মিলে এখন পর্যন্ত ১২টি গোল করেছেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে ইংল্যান্ডের দুই খেলোয়াড়ের সম্মিলিত সর্বোচ্চ গোল। জুড বেলিংহাম অবশ্য কোচের সমালোচনার চেয়ে মাঠের কঠিন লড়াইকেই বড় করে দেখছেন। তার ভাষায়, ‘সবসময় ১০০০ পাস দিয়ে ফুটবল জেতা যায় না, মাঝে মাঝে লড়াই করে ম্যাচ বের করে আনতে হয়। আজকের পরিস্থিতি সত্যিই খুব কঠিন ছিল।’