প্রথমবার বিগ ব্যাশ লিগে খেলতে নেমে অচেনা পরিবেশ, নতুন প্রতিপক্ষ আর বড় মঞ্চের চাপ—সবকিছুই থাকার কথা ছিল রিশাদ হোসেনের জন্য। কিন্তু মাঠে তার পারফরম্যান্স দেখলে তা বোঝার উপায় নেই। বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য লেগ স্পিনার যেন ধৈর্য আর নিয়ন্ত্রণের মিশেলে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিজের জায়গা শক্ত করেই জানিয়ে দিচ্ছেন।
বিগ ব্যাশের লিগ পর্বে হোবার্ট হারিকেনসের হয়ে ব্রিসবেন হিটের বিপক্ষে আজও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন ২৩ বছর বয়সী রিশাদ। ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ম্যাচটি অবশ্য শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পর ৩ রানে হেরেছে হোবার্ট, তবে পরাজয়ের মাঝেও রিশাদের অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো।
বেলেরিভ ওভালে টস জিতে ব্রিসবেন হিটকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় হোবার্ট। নাথান ম্যাকসুয়েনির ৩২ বলে ৪৯ আর ম্যাট রেনশোর ২৫ বলে ৩৭ রানে ভর করে ৮ উইকেটে ১৬০ রান তোলে ব্রিসবেন। রিশাদ শুরুতে কিছুটা খরুচে হলেও দ্রুত ছন্দে ফেরেন। নিজের বোলিং কোটার প্রথম দুই ওভারে ২১ রান দিলেও পরের দুই ওভারে মাত্র ৬ রান খরচ করে ফিরিয়ে দেন বিধ্বংসী রেনশো ও মার্নাস লাবুশেনকে—যা ম্যাচে হোবার্টের ফেরার বড় উপলক্ষ তৈরি করেছিল।
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় হোবার্ট শুরুতেই দুই ওপেনার হারালেও তৃতীয় উইকেটে বিউ ওয়েবস্টার (৫১) ও বেন ম্যাকডারমটের (৫৯) ৬৬ বলে ৯৮ রানের জুটিতে জয়ের পথ খুলে যায়। শেষ ৬ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩৭ রান, হাতে ছিল ৮ উইকেট—সমীকরণটি ছিল পুরোপুরি হোবার্টের পক্ষে। তবু শেষ ওভারে গিয়ে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ হাতছাড়া হয়।
শেষ ওভারে ব্রিসবেন পেসার জামান খানের বিপক্ষে জিততে দরকার ছিল ৬ রান। নাথান এলিস প্রথম দুই বলে এক রান নিতে পারলেও নিখিল চৌধুরী টানা দুই বল ডট খেলে তৃতীয় বলে আউট হন। শেষ বলে যখন প্রয়োজন ৫ রান, তখন নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে আসেন রিশাদ। তবে চাপের মধ্যে তিনি নিতে পারেন মাত্র ১ রান। হোবার্ট থামে ৮ উইকেটে ১৫৭ রানে।
এই হার সত্ত্বেও পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেই আছে হোবার্ট হারিকেনস। ১০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৩, প্লে-অফ তারা আগেই নিশ্চিত করেছে। তবে শীর্ষে থাকা নিশ্চিত করতে এখন তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে অন্য ম্যাচের ফলের দিকে। ৯ ম্যাচে ব্রিসবেনের পয়েন্ট ১০।
ব্যাট হাতে শেষ মুহূর্তে ভাগ্য সহায় হয়নি, তবে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই রিশাদ হোবার্টের ছন্দে থাকার বড় জ্বালানি। বিগ ব্যাশে এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে তার উইকেট ১৩টি। উইকেট শিকারের তালিকায় তিনি আছেন শীর্ষ দশে, আর স্পিনারদের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের লয়েড পোপেরও উইকেট ১৩টি, তবে এক ম্যাচ কম খেলে তার ইকোনমি ৮.৪৮ ও বোলিং গড় ২০.২৩। বিপরীতে রিশাদের ইকোনমি ৭.৫২ এবং গড় ১৯.৬৯—যা তাকে আরও এগিয়ে রাখছে।