মোবাইল ফোনের দাম কমবে না রাতারাতি

মোবাইল ফোনের দাম কমিয়ে আনতে শুল্ক কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে শুল্ক কমানোর প্রভাব মোবাইল ফোনের দামের ওপর কতটা পড়বে, তা নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা রয়েছে। তাই এই শুল্কের কারণে মোবাইল ফোনের দাম কমাতে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে সক্রিয় হতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি জানান, শুল্ক কমলে দাম কমবে। কিন্তু সেটা এক দিনের মধ্যে কমার আশা করা উচিত নয়। কারণ আমদানি বা সংযোজন যেটাই হোক, তার জন্য একটা সময় দরকার।

গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত ‘আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তা করেছে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিআইপিএপি)। ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-আহ্বায়ক ও বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন বিটিআরসির কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইকবাল আহমেদ (অব.), টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদসহ অন্যরা।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব বলেন, ‘যেহেতু শুল্ক কমেছে। দাম কমে আসা উচিত। এ ক্ষেত্রে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সবই আছে সবাইকে যদি আমরা ইফেকটিভ করতে পারি, তাহলে অবশ্যই মোবাইলের দাম কমে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু শুল্ক কমেছে, ব্যবসায়ীরা এখন এলসি খুলবেন। হ্যাঁ, এলসি খোলার পর নতুন যে চালান দেশে আসবে বা নতুন যন্ত্রাংশের বিপরীতে যখন দেশে উৎপাদন হবে, তখন তার প্রভাবটা পড়বে। প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই যদি প্রভাব আশা করেন, তাহলে এটি আমার মনে হয় একটা ভুল প্রত্যাশা। এলসির একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। কয়েক মাস দু-তিন মাস; তারপর প্রোডাক্টের র-মেটেরিয়াল আসার পর উৎপাদন পর্যন্ত একটা সময় লাগে। সেই সময়ের পর আশা করি দাম কমে যাবে।’

এদিকে দেশের আইসিটি ও টেলিকম খাতে পরবর্তী সরকারের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। আইসিটি ও টেলিকম খাতে আনা সংস্কার-পরবর্তী সরকার বাতিল করে দেবে কি না এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সেটি করতেই পারে। তবে সেখানে আমরাও চ্যালেঞ্জ করতে পারব। আমরা কোনো বাক্য বা কোনো শব্দ কেন লিখেছি। সুতরাং পরের সরকার এসে তা বাতিল করে দেবে সেজন্য সংস্কার হবে না। এ ধরনের মনোবৃদ্ধি আমাদের মধ্যে নেই। আমরা এই পলিসিগত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা দেখতে চাই, যা করেছি, সেটা আমরা স্পষ্ট করে যাব এবং আমরা চলে যাওয়ার পর সেটি ডিফেন্ড করার জন্য আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করব।’

আগামী সরকারের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, ‘আমি মনে করি, আমি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছি না। বরং তাদের চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করে যাচ্ছি। সব সমালোচনা, সব চাপ সবকিছু নিজের কাঁধে নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নতুন সরকার যাতে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারে। খুব সুন্দরভাবে সবকিছুকে আমি এককভাবে দায়িত্ব নিয়ে সব চ্যানেল সমাধান করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। গত বাজেটে কোনো প্রকল্প নিইনি। আমি প্রকল্পে বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে।’

সম্প্রতি ৮৮ লাখ সিম বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘হ্যাঁ, ৮৮ লাখ সিম বন্ধ হয়ে গেছে। এটা সংখ্যায় বড় কিন্তু এই সিমগুলোর ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ অব্যবহৃত ছিল। আমাদের একটা আইন আছে, একজনের এনআইডির বিপরীতে এখন আর ১০-এর অধিক সিম থাকতে পারবে না। তবে একজনের এনআইডির বিপরীতে পাঁচটি সিমের যে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি ভুল। মন্ত্রণালয় থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি অনুরোধ করেছে, যাতে পাঁচটির বেশি সিম থাকার সুযোগ বন্ধ করা হয়। আরেকবার অনুরোধ করেছিল একজনের আইডির বিপরীতে যাতে দুটি সিম থাকে। সেখানে আমরা ১০টি পর্যন্ত সিমের অনুমতি দিয়েছি।’