রাতে খাসজমির মাটি লুট

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর থেকে রাতের আঁধারে সরকারি খাস জমির মাটি লুটের মচ্ছব চলছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি পাচার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে, এরই মধ্যে পুলিশের অভিযানে মাটি ভর্তি ৩টি ট্রাকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর, গৌরারং ইউনিয়নের রাধানগর, টুকেরবাজার, জগাইরগাঁও এবং বাহাদুরপুর এলাকার হাওরগুলো থেকে নিয়মিত লুট হচ্ছে সরকারি জমির মাটি। মাটি লুটের সঙ্গে জড়িত রয়েছে একাধিক সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। তারা সরকারি জমির মাটি লুট করে তা উচ্চমূল্যে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন রাত নামলেই ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের গর্জনে প্রকম্পিত হয় আশপাশের এলাকা। খাস জমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় একদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও হাওরের জীববৈচিত্র্য।

গত সোমবার রাত ১২টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বেশ কয়েকটি ট্রাক শহরের হাজিপাড়া সড়কের জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে চলাচল করছে। গভীর রাতে জনবহুল এই সড়কে ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে সৃষ্ট বিকট শব্দে চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অন্যদিকে, জেলা এলজিইডি ভবনের বিপরীতে রাত ১টার দিকে হাওর থেকে লুট করা মাটি দিয়ে নতুন করে একটি ব্যক্তিগত সড়ক নির্মাণ করতে দেখা যায়। এ সড়কে বেশ কয়েকটি ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলতে দেখা গেছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকে মুখ ঢেকে চলে যান তারা।

গভীর রাতেই মাটি লুটের সংবাদ তুলে ধরতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে মাটি পাচারের ভিডিওচিত্র ও মেসেজ পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে গত মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে পুনরায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল বলেন, ‘সরকারি জমির মাটি উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।’

এদিকে, মাটি লুট ঠেকাতে তৎপরতা দেখিয়েছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। গত সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের আমবর পয়েন্ট থেকে মাটি-বালু ভর্তি ৩টি ট্রাক জব্দ করে পুলিশ। এ সময় মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশবাজার এলাকার বিল্লাল মিয়া (২৪) এবং ছাত্তারকোনা গ্রামের মাসুক মিয়া (২১)।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ ট্রাক জব্দের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সরকারি সম্পদ রক্ষায় আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। মাটি লুটের খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ৩টি ট্রাক জব্দ ও ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। এ চক্রের সঙ্গে জড়িতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’