মাদারীপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষ ১৩ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

মাদারীপুরের ডাসারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৩টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত খাতিয়াল এলাকার আব্বাস চৌধুরী (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাতিয়াল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আবুল জমাদ্দারের সঙ্গে একই এলাকার আব্বাস চৌধুরীর বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়াসহ হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে আব্বাস চৌধুরীকে একা পেয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। তাকে প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এলাকায় এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল দুপুর থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা যায়। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্বাসের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আবুল জমাদ্দারের বাড়ি ও তার বংশের লোকজনের বসতঘরে হামলা ও লুট চালায়। হামলাকারীরা আবুল জমাদ্দার, আনোয়ার জমাদ্দার, বেল্লাল জমাদ্দার, সিরাজ জমাদ্দারের ১৩টি বসতঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর শেষে ঘরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ও পরিস্থিতি সামাল দেয়।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজ জমাদ্দার বলেন, ‘আমাদের জানই বাঁচে না। মালামাল সরাব ক্যামনে। আগুনে আমার ঘরবাড়ি সব পুড়ে ছাই হইয়া গেছে। শুধু আমি এক নই, জমাদ্দার বংশের ১৩টি ঘরে কিছু আর বাকি নাই। সব পুড়ে শ্যাষ। আমরা কোনো কিছু বুঝার আগেই আব্বাসের লোকজন হঠাৎ এই হামলা চালিয়েছে। আমরা এ হামলার বিচার চাই।’

এদিকে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম ও ডাসার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আবুল আর আব্বাস গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। এ ছাড়া দুই গ্রুপের মধ্যে জায়গাজমি নিয়েও বিরোধ রয়েছে। দুদিন আগে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই সংঘাত বড় আকারে গতকাল সংঘটিত হয়। আবুল গ্রুপের ১৩টি ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’