আসন-সমঝোতা নিয়ে শেষ মুহূর্তে টালমাটাল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। আসন চূড়ান্ত করতে দফায় দফায় বৈঠক করেছে দলগুলো। চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় গতকাল দিনভর বৈঠক করেছে দলগুলো। রাতে জামায়াত আমিরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর আগে গত মঙ্গলবার কয়েক দফা বৈঠক করে ইসলামী আন্দোলন। ওইদিন রাত পর্যন্ত বৈঠক করেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দলটি। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও দুপুরে তা স্থগিত করা হয়। ফলে শেষ মুহূর্তে আটকে যায় আসন-সমঝোতার ঘোষণা। তবে দু-এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে পারবেন বলে আশাবাদী জোটের নেতারা।
সূত্র বলছে, দফায় দফায় বৈঠক করেও চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন আসন নিয়ে সমঝোতায় আসতে পারেনি। নানা অভিযোগ তুলে জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তবে গতকাল তাদের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান সমঝোতা টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব জানালেও ১২ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ভোটের দিন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন। দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোটের সবকিছু ঠিকঠাক করে গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে খবর চাউর হয় ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যাবে। তবে কিছুক্ষণ পর আসন-সমঝোতাসহ নানা বিষয় ঠিক করার জন্য আরও সময় নেন তারা।
তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের একাধিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের পারস্পরিক আলোচনা চলমান। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই একবক্স নীতির রূপরেখা ও ধরন পরিষ্কার হবে।’
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মহল, সাংবাদিক, দেশপ্রেমিক জনতা ইসলামপন্থার একবক্স নীতি নিয়ে যে আগ্রহ প্রকাশ করছেন, তা দেশ ও ইসলামের জন্য প্রেরণাদায়ক। ইনশাআল্লাহ জাতির প্রত্যাশা পূরণ হবে।
এর আগে জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্বে করেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম প্রমুখ।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৬টি আসন ছাড় দিয়েছিল জামায়াতসহ অন্য দলগুলো। কিন্তু তাদের দাবি ছিল ৭০টি। গতকাল বিকেলে সেটি এই দর-কষাকষি ৪৬-৬০-এ নেমে আসে। তবে ৪০ থেকে ৫০-এর মধ্যে আসন-সমঝোতা হতে পারে বলে উভয় দলের সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসলামী আন্দোলনের একজন কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসন কোনো বিষয় না। আমরা ইসলাম, দেশ ও মানবতার স্বার্থে “একবক্স” নীতিতে এসেছিলাম। এখনে সম্মানটাই বড়। আমরা সম্মানজনক আসনে নির্বাচন করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত দুদিনে তৃণমূল থেকে শুরু করে আমাদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকও হয়েছে। এখন সবার মতামতের ভিত্তিতে ইসলামী আন্দোলনের আমির যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করব।’
এদিকে সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের পর জামায়াত ও চরমোনাইয়ের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি চলমান সার্বিক পরিস্থিতে অধৈর্যশীল আচরণ বা অপ্রীতিকর কোনো কিছুতে না জড়ানোর জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।
গতকাল বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ‘প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ, বহু ত্যাগ এবং কোরবানির সিঁড়ি বেয়ে প্রিয় সংগঠন ও জাতি মহান আল্লাহতায়ালার একান্ত মেহেরবানিতে এ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সময়টা জাতীয় জীবনের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁক। এ সময় সবাইকে সর্বোচ্চ প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে, দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কারও ব্যাপারেই কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’
সবশেষ তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন। আশা করি, আমরা সবাই সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেব, ইনশাআল্লাহ।’