শরীয়তপুর

মেলায় এলেই বাড়ি ফেরা জোড়া ইলিশ নিয়ে

শরীয়তপুর সদর উপজেলার মনোহর বাজারের কালি মন্দির মাঠে বসেছে ঐতিহ্যবাহী জোড়া ইলিশের মেলা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে এই মেলা। এতে ভোর থেকেই মাঠে চৌকি পেতে ডালায় ডালায় ইলিশ মাছ সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। তার পাশেই বসে বেগুনসহ নানান শাক সবজি, খেলনা, মিষ্টিসহ বিভিন্ন রকমের খাবারের দোকান।

কনকনে শীত উপেক্ষা করে ক্রেতা বিক্রেতার হাঁক-ডাকে জমে উঠে পুরো এলাকা। মেলায় আসা সবাই ঘরে ফেরেন জোড়া ইলিশ আর জোড়া বেগুন নিয়ে।

প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম দিন বসে এই ঐতিহ্যবাহী জোড়া ইলিশের মেলা।

স্থানীয়রা জানায়, পদ্মার ছোট-বড় ইলিশ নিয়ে মাঘের প্রথম সকালে বসছে এই জোড়া ইলিশের মেলা। মেলায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়। জোড়া ইলিশ মাছ ঘরে নিয়ে রান্না করে আত্মীয়স্বজনকে খাওয়ানোর প্রথা আছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে। হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষ দুর্গাপূজার পর ইলিশ মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেন। পরবর্তী সময় পৌষসংক্রান্তির উৎসব উদ্‌যাপন শেষে পয়লা মাঘ দুটি ইলিশ মাছ, দুটি বেগুন, শাকসবজি ও মিষ্টি এই মেলা থেকে কিনে নিয়ে তা ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী ঘরে তুলে নেন। পাশাপাশি মুসলমানরা জোড়া ইলিশসহ বিভিন্ন পণ্য কিনে নেন মেলা থেকে।

ছবি: প্রতিনিধি

সুরঞ্জিত পোদ্দার, বাসুদেব দাসসহ কয়েকজন ক্রেতা বলেন, উৎসবমখর পরিবেশে জোড়া ইলিশ ও জোড়া বেগুনসহ নানা পন্য কিনতে পাওয়া যায় এই মেলায়। তাই সকাল সকাল মাছ কিতে এসেছি।

মেলায় মাছ বিক্রিতা মনির দাস বলেন, তিন ধরনের ইলিশ মাছ বিক্রি করছি। এরমধ্যে এক কেজির বড় ইলিশ দাম ৩২০০ থেকে ৩৫০০ টাকা, মাঝারি কেজিতে ২/৩টা ইলিশের দাম ১৫০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। বেচাবিক্রি খুবই ভালো, আর ভালো দামে বিক্রি করছি। আমি গত ৩০ বছর যাবত এই মেলায় জোড়া ইলিশ বিক্রি করি।

বিক্রেতা আব্দুল হান্নান বলেন, ইলিশ, চিংড়ি, রুই, কাতলা, শিংসহ নানা ধরনের মাছ বিক্রি করছি। এই মেলায় ২৫ বছর যাবৎ মাছ বিক্রি করছি। বেচাবিক্রি খুবই ভালো হচ্ছে।

মেলার আয়োজক সুজিত দাস বলেন, প্রতি বছর মাঘের প্রথম দিনে এই মেলার আয়োজন করা হয়। ২০০ বছর যাবৎ  আমরা ও এলাকাবাসী এই মেলার আয়োজন করে আসছি। মেলায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ বিক্রি হয়।