গণভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু সরকারের

গণভোট নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রচারণা শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রচারণার প্রথম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান চট্টগ্রামে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালান। প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুকের একটি পোস্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়।

পোস্ট থেকে জানা যায়, ‘নির্বাচন মনিটরিং ও সহায়তা প্রদান-সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা গতকাল থেকে এই প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন। এ কার্যক্রমের আওতায় তারা আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় গণভোটের গুরুত্ব, উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করবেন।’

প্রচারণার অংশ হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং গণভোটে অংশগ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করবেন।

গণভোটের পক্ষে প্রচার সরকারের ম্যান্ডেটের অংশ রিজওয়ানা হাসান : এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘সরকার গণভোটের পক্ষে “হ্যাঁ” ভোট দিতে বলছে এতে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কিছু নেই। কারণ এটি সরকারের ম্যান্ডেটের অংশ। সরকার কোনো রাজনৈতিক দল নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে না।’

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হলে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কোনো রাজনৈতিক দল আইনিভাবে নিষিদ্ধ হলে, সে দল কীভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে সেটাই প্রশ্ন।’

‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় আইনগত বাধা নেই আলী রীয়াজ : গতকাল চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘কোনো নাগরিক এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিতদের “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণায় আইনগত বা সাংবিধানিক বাধা নেই।’

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সুস্থিরভাবে যুক্তিতর্ক দিয়ে বিরোধিতা করে কেউ আলোচনায় যেতে চাইলে অবশ্যই পারে। আমরা তো অনেক বিষয়েই একমত হব না। কিন্তু আপনাকে তার থেকে (প্রচার) বিরত রাখতে পারে না। কারণ হচ্ছে, আইনগতভাবে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিতদের “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণার ব্যাপারে কোনো আইনগত বা সাংবিধানিক বাধা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। অনেক ধরনের আপত্তি হচ্ছে, কেউ কেউ বলছেন, বিসমিল্লাহ থাকবে না, কেউ কেউ বলেন, ১৯৭১ মুছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো সঠিক নয়। জুলাই জাতীয় সনদ কোনো অবস্থাতেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বাতিল করার কথা বলেনি। রাজনৈতিক দলগুলো (যেসব বিষয়ে) একমত হয়নি, সে বিষয়ের কোনো উল্লেখ নেই। একইভাবে বিসমিল্লাহ বাদ দেওয়ার ব্যাপারে জুলাই জাতীয় সনদে কোনো ধরনের উল্লেখ নেই। গণভোটেও সে রকম কিছু নেই।’

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। অন্যদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।