স্ত্রী-কন্যা নিয়ে যমুনায় তারেক রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করেন তিনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান শেষে আনুমানিক রাত ৯টার দিকে সপরিবারে যমুনা ত্যাগ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. ইউনূসের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন তারেক রহমান ও তার পরিবার। এ সময় সেখানে ছিলেন ড. ইউনূসের মেয়ে দিনা আফরোজ। সাক্ষাৎকালে দুই পরিবারের সদস্যরা একে অন্যের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের এ সাক্ষাতে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনে যান তারেক রহমান। সেখান থেকে ৬টা ৫২ মিনিটে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাসে করে যমুনার উদ্দেশে রওনা হন তারা।

যুক্তরাজ্যের লন্ডন সফরকালে গত বছরের ১৩ জুন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রথমবার তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। তারেক রহমান তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে দুজনের সেই বৈঠকের পর উভয়পক্ষের প্রতিনিধি যৌথ বিবৃতি দিয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই ফোনে প্রধান উপদেষ্টা সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দেশে ফেরার পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।

যদিও এর মধ্যে গত ৩১ ডিসেম্বর প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় সাক্ষাৎ হয় ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের। গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হন। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সর্বোচ্চ এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে এই সাক্ষাতের আগে গতকাল বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং এতে রাজনৈতিক কোনো এজেন্ডা নেই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দাফন ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় সরকার যেভাবে সহযোগিতা করেছে, তাতে তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মূলত সেই কৃতজ্ঞতাবোধ এবং পারস্পরিক সৌজন্যবোধ থেকেই এই সাক্ষাতের আয়োজন বলে ধারণা করা হচ্ছে।