পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাগলা থেকে চরগরবদি ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আরঅ্যান্ডএইচ সড়কে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিনই সাধারণ যাত্রী, চালক, শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণাধীন সাবেক এমপি রুহুল আমিন হাওলাদার মসজিদ কমপ্লেক্সের সামনে, ধোপাবাড়ি, সরকারি জনতা কলেজ মোড়, থানা ব্রিজ এলাকা, পল্লীবিদ্যুৎ অফিস, রাজাখালী স্ট্যান্ড, তালতলি বাজার, ফার্মগেট স্ট্যান্ড, নুরে হেরা মাদ্রাসার সামনেসহ সহস্রাধিক স্থানে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছ। বৃষ্টি হলে এসব গর্ত পানিতে ভরে যায়, ফলে সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় না। এতে প্রায়ই যানবাহন গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিশেষ করে বাস, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশা ও পণ্যবাহী যান চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে।
এই সড়ক ব্যবহারকারী গাড়িচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাতায়াতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। পাশাপাশি গাড়ির চাকা, সাসপেনশনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই অভিযোগ করেন যাত্রীরাও।
পথচারীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে দ্রুতগতির যানবাহনের চাকা গর্তে পড়লে কাদাপানি ছিটকে পথচারীরা ভিজে যান। এতে একদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে ইটের খোয়া ফেলে অস্থায়ীভাবে গর্ত ভরাট করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো সরে গিয়ে সড়ক আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হয়ে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসী বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকসই সংস্কার করে সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল হোসেন জানান, শিগগিরই সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।