ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের কোনোভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচন কমিশনে পেশিশক্তির প্রদর্শনী চলছে। শুনানিতে অংশ নিতে একেকজন শত শত লোক নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আইনজীবীদের মহড়াও দিচ্ছেন। বিএনপি নিজেদের গণতন্ত্রের ধারক-বাহক, গণতন্ত্রের পাইওনিয়ার দাবি করে একদিকে। আবার তাদের সমর্থিত প্রার্থীরাই গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রম করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আগে সুযোগ পেয়ে এ দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে, সম্পদ গড়েছে, তারা এখন আবার দেশে এসে দ্বৈত নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার পাঁয়তারা করছে। আমরা কোনোভাবেই এসব দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেব না।’
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকের কেউ নির্বাচন করার সুযোগ পেলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে নামার হুঁশিয়ারিও দেন এনসিপির এ নেতা।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘কমিশন যদি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হয়েও স্বাধীনতা ধরে রাখতে না পারে, তাহলে রাজনৈতিক দাবি আমরা করতেই পারি। আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। আইন ভঙ্গ করে কিংবা ফাঁকফোকর করেও কোনো দ্বৈত নাগরিক কিংবা ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। এই নির্বাচন কমিশনকে কোনোভাবেই একটি দায়সারা নির্বাচন করার সুযোগ দেব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কালকে (আজ রবিবার) আপিল শুনানির শেষ দিন, এটি নির্বাচন কমিশনের জন্য রেডলাইন। যদি তারা ভুল করে, পক্ষপাত করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবে এনসিপি।’
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বিএনপির অনেকে ঋণখেলাপি হয়েও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে তাদের বৈধতা দিয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে ইসি সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে, এটি খুবই বিপজ্জনক প্রবৃত্তি। কমিশন আইন অনুসরণ করবে, ব্যাখ্যা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।