ইরানে ফের বিক্ষোভের ডাক রেজা পাহলভির, মিলল না সাড়া

ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির নতুন করে দেওয়া বিক্ষোভের আহ্বানে দেশটির সাধারণ মানুষের বড় ধরনের কোনো সাড়া দেখা যায়নি। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর উল্লেখযোগ্য কোনো আন্দোলন বা সমাবেশ হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রেজা পাহলভি গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত টানা ৩ দিনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। তবে প্রথম দিন থেকেই মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। বিশেষ করে তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে শান্ত।

এর আগে, গত মাসের শেষ দিকে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা চলতি জানুয়ারির ৭ ও ৮ তারিখে সহিংস রূপ নেয়। সে সময় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা আলোচনায় আসে। ওই পরিস্থিতিতে রেজা পাহলভি প্রকাশ্যে দাবি করেন, সরকার পতন হলে তিনি একটি অন্তর্বর্তী বা রূপান্তরকালীন নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। বিদেশে বসবাসরত অনেক ইরানির মধ্যে তার বক্তব্য কিছুটা সমর্থন পেলেও দেশের ভেতরে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরে রাজতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়ে জনমনে দ্বিধা রয়েছে। কেউ কেউ পরিবর্তনের পক্ষে থাকলেও অনেকেই অতীতের শাসনব্যবস্থায় ফিরে যেতে আগ্রহী নন। ফলে পাহলভির আহ্বান সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

সাম্প্রতিক এই নীরবতার পেছনে সরকারের কঠোর অবস্থানও একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি ও দমননীতির কারণে আন্দোলনকারীরা আপাতত সক্রিয় কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন—এমন ধারণাই জোরালো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানালেও বর্তমান পরিস্থিতিতে খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকার বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।