মামলা তুলে নিতে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জে অপহরণ মামলার বাদী পক্ষ মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহাগ। এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের কলেজ রোড এলাকা থেকে মো. সোহাগকে ফিল্মি কায়দায় অপহরণ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অপহরণকারীরা তাকে পটুয়াখালী নিয়ে যায় এবং পরদিন ২ জুন পায়রা বন্দর ফেরিঘাট এলাকা থেকে একটি গাড়ির ভেতর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় তার স্ত্রী তানিয়া আহাম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরণ চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে অপহরণের দায় স্বীকার করে।

তবে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আসামিরা জামিনে মুক্তি পায়। জামিনে বেরিয়েই অপহরণের মূলহোতা আল আমিন ওরফে জিতুর পরামর্শে অন্য আসামিরা মো. সোহাগকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তার বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে মহড়া দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মো. সোহাগ গত ১২ জানুয়ারি ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযুক্তরা হলেন— আল আমিন ওরফে জিতু (৩০), মো. সাকিব হোসেন (২৪)মো. কবির হালদার (৪০), মো. ছাহাদ (২৩) এবং ইমরান হোসেন মোহন (৩১)।

এ বিষয়ে মো. সোহাগ বলেন, আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এভাবে চলতে থাকলে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।