মিরপুরে রোমাঞ্চ, শেষ বলে ছক্কা মেরে সিলেটকে জেতালেন ক্রিস ওকস

শেষ বলে ৬ রানের সমীকরণে ছক্কা মেরে দলকে জেতানোর প্রথম ঘটনা ঘটলো বিপিএল। আর ক্রিস ওকস এই কীর্তি গড়লেন বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেই। 

১১২ রান তাড়ায় শেষ ২ ওভারে সিলেটের রান দরকার পড়ে ১৫। ১৯তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান বল করতে এসে স্যাম বিলিংস বড় শট খেলতে গিয়ে সীমানার ধরে তাওহীদ হৃদয়ের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন। ৪০ বলে এই ইংলিশ ক্রিকেটার করেছেন ২৯ রান। এসময় উইকেটে আসেন ক্রিস ওকস। ওই ওভারে মোস্তাফিজ মাত্র ৬ রান দিলে শেষ ওভারে সমীকরণ দাড়ায় ৯ রান।

বল করতে আসেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ। প্রথম বলে মঈন আলি কোনো রকম ২ রান নিলেও পরের দুই বলে ডট আদায় করে নেন ফাহিম। চতুর্থ বলে মারতে গিয়ে আউট হয়ে যান মঈন। পঞ্চম বলে খালেদ নিতে পারেন ১ রান। শেষ বলে কভারের উপরে দিয়ে ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতে নেন বল হাতে ১৫ রানে ২ উইকেট শিকারী ওকস। 

৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে সিলেট টাইট্যান্স উঠে যায় বিপিএল কোয়ালিফায়ার ২তে। 

শেষ বলে সেই ছক্কার মার ক্রিস ওকসের। ছবি: মোশারফ ভুবন

আর এলিমিনেটরেই থেমে যায় শীর্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে বিবেচিত রংপুর রাইডার্সের বিপিএল মিশন। প্রথম ৫ ম্যাচে ৪ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় এককভাবে শীর্ষে ওঠার পর ছন্দপতন হয়েছে রংপুর রাইডার্সের। সেখান থেকে ছন্দপতন, টানা ৩ ম্যাচে হারে তাদের জায়গা হয়েছিল এলিমেন্টরে। 

ইংল্যান্ড থেকে উড়ে আসা পেসার ওকসের (৪-০-১৫-২) সঙ্গে সিলেটের পেসার খালেদের (৪-০-১৪-৪) টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারসেরা বোলিং! এই পেস জুটির কাছে অসহায় আত্মসমর্পন করেছে রংপুর রাইডার্স ব্যাটাররা। ১১১/৯-এ থেমেছে রংপুর রাইডার্স।

আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান তাওহীদ হৃদয় দিয়েছেন আত্মাহুতি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে খালেদের অফ স্ট্যাম্পের অন্তত দূরের বল মারতে করতে গিয়ে  উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন হৃদয় (৬ বলে ৪ রান)। পরের ওভারে স্বদেশী ওকসকে পুল করতে যেয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন ইনফর্ম ডেভিড মালান (৯ বলে ৪)। খালেদ পরের ওভারে সুইং ডেলিভারিতে অধিনায়ক লিটন দাসকে কিপারের গ্লভসবন্দী করিয়েছেন (লিটন ৪ বলে ১)। সিলেটের থার্ড সীমার সালমান ইরশাদের তৃতীয় ডেলিভারিতে কাভারের উপর দিয়ে খেলতে যেয়ে ডিপ কাভারে মায়ার্স (১৩ বলে ৮) দিয়েছেন ক্যাচ। 

স্কোরশিটে ২৯ উঠতে ৪ উইকেট হারিয়ে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ পর পর ২টি ৩০-এর ঘরে পার্টনারশিপে দিয়েছেন নেতৃত্ব। প্রথম বাউন্ডারির জন্য রংপুর রাইডার্সকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩০তম ডেলিভারি পর্যন্ত! ৫ম উইকেট জুটিতে খুশদিল শাহ-কে নিয়ে ২৯ বলে ৩৪, ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে সোহানকে নিয়ে ২৭ বলে ৩১ রানের পার্টনারশিপে রেখেছেন ভুমিকা। 

সিলেটের জয়ের দুই নায়ক- ক্রিস ওকস ও ম্যাচসেরা খালেদ আহমেদ। ছবি: মোশারফ ভুবন

বাঁ হাতি স্পিনার নাসুমের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে কাউ কর্নারে খুশদিল শাহ (১৯ বলে ৩ ছক্কায় ৩০) এবং নাসুমের শেষ ওভারের ৫ম বলে শাফল করে খেলতে যেয়ে মাহমুদউল্লাহ উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে (২৬ বলে ২ চার, ২ ছক্কায় ৩৩) দিলে রংপুরের চ্যালেঞ্জিং স্কোরের আশা শেষ হয়ে যায়।  ডেথ ওভারের আদর্শ ব্যাটিংয়ের চাহিদা মেটাবেন বলে সোহানের দিকে চোখ ছিল যাাদের, তাঁরাও হতাশ হয়েছেন। ১৮তম ওভারের ৫ম বলে খালেদকে ডিপ মিড উইকেটের উপর দিয়ে খেলতে যেয়ে দিয়েছেন সোহান ক্যাচ (২৪ বলে ১ ছক্কায় ১৮ রান)।  

১২০ বলের মধ্যে ৫৮টি ডট করেছে রংপুর রাইডার্স ব্যাটাররা। ৬টি ছক্কার পাশে বাউন্ডারির সংখ্যা মাত্র ৪টি! 

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রংপুর: ২০ ওভারে ১১১/৯ (মাহমুদউল্লাহ ৩৩, খুশদিল ৩০; খালেদ ৪/১৪, ওকস ২/১৫, নাসুম ২/১২)

সিলেট: ২০ ওভারে ১১২/৭ (বিলিংস ২৯, ওকস ১০*; আলিস ১৮/২, মোস্তাফিজ ২/২০)

ম্যাচসেরা: খালেদ আহমেদ