চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় আজ বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত মামলা হয়নি। আটক বা গ্রেপ্তারও হয়নি এদিকে র্যাবের ওপর হামলার পেছনে জঙ্গল সলিমপুরে বিবদমান দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপের দ্বন্দ্বকেই দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর মধ্যে একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মো. ইয়াসিন ও অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন। ঘটনার দিন একপক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে র্যাবকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ঘটনার দিন র্যাবের এক সোর্সকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দেখেই আরেক পক্ষ ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এসময় সেখানে সাদাপোশাকে থাকা র্যাব সদস্যরাও হামলা মুখে পড়ে যান। একপর্যায়ে সোর্সসহ র্যাবের চার সদস্যকে ৩ কিলোমিটার ভেতরে দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে মারধর করা হয়।
জানা গেছে, সন্ত্রাসীদের 'নিয়ন্ত্রণকারী' এক পক্ষের নেতা রোকন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (বহিষ্কৃত)। অপরদিকে ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। ৫ আগস্টের পর দুজনই বিএনপির এক নেতার অনুসারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে আসছেন।
পুলিশ জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা রোকন উদ্দিন ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিনের বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে গত সোমবার ইয়াসিনের লোকজন ওই এলাকায় বিএনপির একটি কার্যালয় উদ্বোধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেখানে ইয়াসিনসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী আসতে পারে—এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের ৪০ জনের একটি দল জঙ্গল সলিমপুরে গেলে হামলার শিকার হন। এ সময় অন্য সদস্যরা সরে আসতে পারলেও র্যাবের চার সদস্য ও তাদের তথ্যদাতাকে (সোর্স) আটকে ফেলে ইয়াসিনের লোকজন। পরে তাদের অটোরিকশায় করে তিন কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তাদের মারধর করা হয়।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান সংবাদ মাধ্যমেকে বলেন, খবর পেয়ে একদল দুর্গম পাহাড়ের অন্তত তিন কিলোমিটার ভেতর থেকে চার র্যাব কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। আহতদের মধ্যে র্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া মারা যান। আহত বাকি তিন র্যাব সদস্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানান, ইয়াসিনকে সরিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নিতে গত বছরের ৫ আগস্টের পর হামলা চালান বহিষ্কৃত যুবদল নেতা রোকন উদ্দিনের পক্ষের লোকজন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৪ অক্টোবর ভোরে নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর দখলের চেষ্টা করেন রোকনের লোকজন।
এ সময় তার অনুসারী খলিলুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আহত হন অন্তত আরও ২৫ জন। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বাবা বাদী হয়ে মামলা করে। সম্প্রতি আলীনগরের পাহাড় দখলে নিতে অস্ত্র কেনার একটি কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অস্ত্রের কথা বলা ওই ব্যক্তি বহিষ্কৃত যুবদল নেতা রোকন উদ্দিন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এদিকে গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে রোকন ও ইয়াসিন দুজনই র্যাব কর্মকর্তা নিহতের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।