বরগুনা সদর উপজেলার ক্রোক স্লুইজ থেকে নিশানবাড়িয়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের দ্বিগুণ পার হলেও শেষ হয়নি। ১০ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২২ মাসেও অসম্পূর্ণ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহনের চালকরা। বরগুনা শহরের সঙ্গে একটি উপজেলা ও চারটি ইউনিয়নের এই সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও আংশিকভাবে খোয়া ফেলা হলেও তা সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ ও গর্ত। এতে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এ সড়কে এই পর্যন্ত অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকরা। রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে রাস্তার ধুলোয় নাকাল হতে হচ্ছে পথচারীদের।
নিশানবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। রাস্তা দিয়ে এখন আর মানুষ চলাচলের কোনো উপায় নেই। রাস্তায় নামলেই ধুলোয় মেখে যেতে হয়। তাই শুধু আশ্বাস দিয়ে আর লাভ নেই, আমরা দ্রুত কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
পথচারীরাও একই অভিযোগ করেন। এক পথচারী জানান, রাতে গর্ত দেখা যায় না। হেঁটে চলাচল করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক সময় সামনে দুর্ঘটনা ঘটতে দেখেও কিছু করার থাকে না।
সড়ক দিয়ে চলাচল করা মোটরবাইক ও অটোরিকশার চালকরা বলছেন, সংস্কারের নামে সড়কটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দু-তিন দিনের মধ্যেই সব সরে যাচ্ছে। হঠাৎ ব্রেক করলে গাড়ি পিছলে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।
অটোরিকশার চালক রফিক হাওলাদার বলেন, ‘প্রায়ই গাড়ি উল্টে যাচ্ছে। আমিও একবার উল্টে আহত হয়েছিলাম। গাড়ির ক্ষতি আর চিকিৎসা খরচ সব আমাদেরই বহন করতে হয়।’
এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই সড়ক প্রকল্পের জন্য ৩২ কোটি ৭৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন ও জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই, যা এলজিইডির তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবি শুধু আশ্বাস নয়, তারা দ্রুত কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চান।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন ও জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্সের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নানা অজুহাতে কথা এড়িয়ে যান।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খান বলেন, ‘কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হবে।’০০০