আজ ঢাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া আগামী ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি নির্বাচনী সফরে উত্তরাঞ্চল যাবেন তিনি। সেখানে পঞ্চগড় জেলা দিয়ে উত্তরাঞ্চলের প্রচারণা শুরু করবেন।
গতকাল বুধবার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দলটির মুখপাত্র এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, আজ ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুরে নির্বাচনী জনসভার মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করবেন ডা. শফিকুর রহমান। পঞ্চগড় জেলা দিয়েই উত্তরের প্রচারণার যাত্রা শুরু হবে আমিরের। একই দিনে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও সন্ধ্যায় রংপুরে জনসভায় ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, এ ছাড়া ২৪ জানুয়ারি সকাল ১০টায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উত্তরের দ্বিতীয় দিনের সফর।
তিনি জানান, গাইবান্ধা, বগুড়া, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় প্রচারণা সভায় যোগ দিয়ে ঢাকায় ফিরবেন তিনি। ২৫ তারিখ ঢাকায় কয়েকটি সমাবেশ ও বৈঠকে অংশ নেবেন জামায়াত আমির।
এদিকে, জামায়াত আমিরের সফর ও নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জামায়াত চিঠি দিয়েছে বলেও জানান এই নেতা।
নির্বাচনে ভয়ভীতিহীন পরিবেশ চান জামায়াত আমির : জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে এমন নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা একটা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। যেখানে কোনো ভয়ভীতির পরিবেশ থাকবে না। এ রকম একটি নির্বাচন চাই।’ গতকাল বুধবার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গত মঙ্গলবার ঢাকা-১৫ আসন (মিরপুর-কাফরুল) এলাকার পীরেরবাগ এলাকায় সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হন জামায়াত নেতাকার্মীরা।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমরা তাদের দেখতে এসেছি। এখানে সব মিলিয়ে ২৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণার আগে কেন এমনটা হলো? আমাদের কেউ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ আছে। তারা কর্তৃপক্ষকে বলবেন। কর্তৃপক্ষ তাদের মতো করে উদ্যোগ নেবে। সে ব্যাপারে আমাদের সতর্ক করবে। আমাদের কাছে জানতে চাইবে। কিন্তু পদক্ষেপ নেওয়ার তাদের (কোনো দল) এখতিয়ার নেই। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা দলের কোনো ধরনের এখতিয়ার নেই এ ব্যাপারে মব সৃষ্টি করার। আমরা এই মবের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা দেখতে চাই মব যেন এখানেই শেষ হয়।’
জামায়াত আমির বলেন, শুধু ঢাকা-১৫ আসন নয়, অনেক জায়াগায় ভয়-ভীতি ও হামলার টুকটাক ঘটনা শুনতে পাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে বলব সত্যিই আপনারা যে অঙ্গীকার করেছেন সুষ্ঠু নির্বাচনের, সে অঙ্গীকার যদি আপনারা বাস্তবায়ন দেখতে চান, তাহলে আপনাদের দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। অবশ্য সমতল মাঠ সবার জন্য দিতে হবে। সবাইকে সমান সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে এবং যারা সন্ত্রাস এবং দুর্বৃত্তপনা করবে, তাদের মুখের দিকে না তাকিয়ে আপনাদের দায়িত্বের দিকে তাকিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৩০০ আসনে যারা অংশগ্রহণ করছেন, তাদের সবার প্রতি অনুরোধ, জনগণের প্রতি আস্থা রাখুন। জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে তার ভোট তার পছন্দমতো প্রতীক এবং বাক্সে পৌঁছানোর সুযোগ দিন। এর মাধ্যমে যিনিই নির্বাচিত হয়ে আসবে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হবে সহযোগিতা করা।’
আমিরে জামায়াত বলেন, একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় অধিকার হলো ভোটের অধিকার। সেই অধিকারই তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একই কায়দায় কেউ যদি ‘এবারও আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব’ এই সেøাগান নিয়ে যদি নামেন যুবসমাজ ভোটের মাধ্যমে, ব্যালটের মাধ্যমে তার উচিত জবাব দেবে।