ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভোটের প্রচারে এনসিপি

আজ বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণা শুরুর দিন আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত তিন নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিমুদ্দিন ও শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের মাজার এবং শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আজ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টায় এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তিন নেতার মাজারে যাবেন দলের নেতারা। পরে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন তারা। এরপর তারা প্রচারণা চালাতে চালাতে প্রেস ক্লাবের দিকে অগ্রসর হবেন।

এদিন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল, জাবেদ রাসিন, যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, দিলশানা পারুল ও নাবিলা তাসনিদসহ দলের অন্য নেতারা।

এনসিপি সূত্রে জানা যায়, এনসিপি নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর তারা প্রেস ক্লাবের দিকে জনসাধারণের দ্বারে দ্বারে যাবেন এবং ভোট চাইবেন। তাছাড়া ঢাকার বাইরের প্রার্থীরা নিজ নিজ উপজেলা সদর থেকে প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করবেন।

এদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে ৩০ আসনে প্রার্থী নিশ্চিত করেছে দলটি। ২৯ আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা) আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

৩০ আসনে এনসিপির চূড়ান্ত প্রার্থীরা হলেন ঢাকা-১১ মো. নাহিদ ইসলাম, রংপুর-৪ আখতার হোসেন, ঢাকা-৮ মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, পঞ্চগড়-১  মো. সারজিস আলম, দিনাজপুর-৫ মো. আব্দুল আহাদ, কুড়িগ্রাম-২ আতিকুর রহমান মোজাহিদ, নাটোর-৩ এস এম জার্জিস কাদির, সিরাজগঞ্জ-৬ এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, পিরোজপুর-৩ মো. শামীম হামিদী, টাঙ্গাইল-৩ সাইফুল্লাহ হায়দার, ময়মনসিংহ-১১ জাহিদুল ইসলাম, নেত্রকোনা-২ ফাহিম রহমান খান পাঠান, মুন্সীগঞ্জ-২ মাজেদুল ইসলাম, ঢাকা-৯ মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া, ঢাকা-১৮ আরিফুল ইসলাম আদিব, ঢাকা-১৯ দিলশানা পারুল, ঢাকা-২০ নাবিলা তাসনিদ, গাজীপুর-২ আলী নাছের খান, নরসিংদী-২ মো. গোলাম সারোয়ার, নারায়ণগঞ্জ-৪ আব্দুল্লাহ আল আমিন, রাজবাড়ী-২ জামিল হিজাযী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আশরাফ উদ্দিন মাহদি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আতাউল্লাহ, কুমিল্লা-৪ হাসনাত আবদুল্লাহ, নোয়াখালী-২ সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, নোয়াখালী-৬ আব্দুল হান্নান মাসউদ, লক্ষ্মীপুর-১ মো. মাহবুব আলম, চট্টগ্রাম-৮ মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ, বান্দরবান-আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন, মৌলভীবাজার-৪ প্রীতম দাস।

এনসিপির কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলটির প্রার্থীরা জোটের প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নিজ নিজ আসনে প্রচারণা শুরু করবেন। জামায়াতে ইসলামী, খেলাফতে মজলিসসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা এনসিপির প্রার্থীদের সঙ্গে মিলে প্রচারণায় অংশ নেবেন। ইতিমধ্যেই এসব আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার সময় শেষ দিন হলেও চট্টগ্রাম-৮ ও নরসিংদী-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলেও গতকাল বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির প্রার্থীদের সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ান জামায়াতের প্রার্থীরা।

তবে জোটভুক্ত দলকে ছেড়ে দেওয়া দুটি আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি এনসিপি। আসন দুটি হলো শরীয়তপুর-১ ও শেরপুর-১। এ বিষয়ে এনসিপির দায়িত্বশীল একজন নেতার ভাষ্য, দলের প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে যেতে পারেননি। পরে তারা গেলেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেননি।

জানতে চাইলে এসব বিষয় নিশ্চিত করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তিনি বলেন, ছেড়ে দেওয়া আসনেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করার বিষয়টি নিয়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হচ্ছে। আলোচনায় একটি সমাধান আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহবুব আলম বলেন, আমাদের প্রার্থীরা কাল (বৃহস্পতিবার) নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা শুরু করবেন। তবে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ঢাকায় বিভিন্ন আসনের অন্য প্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রচারণা শুরু করে নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাবেন।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, বৃহস্পতিবার (আজ) সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনেই প্রচারণা শুরু করবে এনসিপি। আমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাব শাপলাকলি ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত গঠন করতে। তাছাড়া, অন্যান্য আসনগুলোতে জোটের প্রার্থীদের পক্ষে এনসিপি নেতারা প্রচারণা চালিয়ে যাবেন।