গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে একটি আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে একটি পোশাক কারখানার ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে শ্রীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাংনাহাটি ছাপিলা পাড়া এলাকায় অবস্থিত লাক্সমা ইনারওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বেতন পরিশোধের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে শ্রীপুর মাস্টারবাড়ি আঞ্চলিক সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন। তবে শ্রমিকরা সড়ক ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্প পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
শ্রমিকদের দাবি, পুলিশের এই অভিযানে অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই নারী। আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষ বেতন পরিশোধ করছে না। একাধিকবার বেতনের তারিখ দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত টাকা দেওয়া হয়নি। সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে আন্দোলনে নামেন।
কারখানার শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘পাওনা বেতনের অভাবে শ্রমিক পরিবারগুলো চরম কষ্টে আছে। বাসা ভাড়া, দোকানের বাকি— সব মিলিয়ে চাপ বেড়েই চলেছে। ওভারটাইম কমে যাওয়ায় আয়ও কমেছে। তার ওপর বেতন না পেলে পরিবার নিয়ে চলা অসম্ভব।’
নারী শ্রমিক আসমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। এতে অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের ওসি (শ্রীপুর জোনাল) আবদুল লতিফ বলেন, উত্তেজিত শ্রমিকদের বারবার সড়ক ছাড়ার অনুরোধ জানানো হলেও তারা সাড়া দেননি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পাঁচ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। কোনো শ্রমিক আহত হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এক মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। লাক্সমা ইনারওয়্যার লিমিটেডের অ্যাডমিন অফিসার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘নানা কারণে সাময়িক আর্থিক সংকট ছিল। তবে আগামী দুই দিনের মধ্যে সকল বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। শ্রমিকদের দুই মাসের বেতন বকেয়া থাকার দাবি সঠিক নয়।’
ঘটনার পরও শ্রমিকরা কারখানার আশপাশে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।