আগেও যুবককে হত্যা, সম্রাটের নামে রয়েছে আরও ৩ মামলা

সাভারের আলোচিত ছয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার মশিউর রহমান সম্রাট ওরফে সবুজ শেখের বিরুদ্ধে অতীতের আরও গুরুতর অপরাধের তথ্য পাওয়া গেছে। একটি হত্যাকাণ্ডসহ তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই তিনটি মামলা ছিল। এছাড়া বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি অপারেশন) হেলাল উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, ২০১৪ সালের ৫ মার্চ সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর এলাকার শাপলা হাউসিংয়ের ভেতর থেকে জেবায়ের ওরফে শাওন নামের এক যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় সম্রাট ওরফে সবুজ শেখকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। সে সময় তিনি ‘টাইগার সম্রাট’ নামে পরিচয় দিতেন এবং রাজধানীর আরমানিটোলা এলাকার বংশালকে নিজের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে শাপলা হাউসিং এলাকা থেকেই গ্রেপ্তার করে।

ওসি অপারেশন আরও জানান, ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এবং ২৬ এপ্রিল মাদকসহ সম্রাটকে আরও দুইবার গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। ওই মামলাগুলোতে সে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাটের বিরুদ্ধে একটি পুরনো হত্যাকাণ্ড ও দুটি মাদক মামলাসহ বর্তমানে মোট আটটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের কাছ থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ২৯ আগস্ট রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে নিহত যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

এরপর ১১ অক্টোবর রাতে একই কমিউনিটি সেন্টার থেকে অজ্ঞাত (৩০) বছর বয়সী এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসব ঘটনায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সর্বশেষ, রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড মহল্লার পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে পুলিশ।