একটা সময় ঋতুকালীন সমস্যা হিসেবে সাইনাসকে বিবেচনা করা হতো। আর বর্তমানে সাইনাস অ্যালার্জি ক্রমশ বছরব্যাপী স্থায়ী সমস্যা হয়ে উঠছে, বিশেষ করে শহরে বসবাসকারী মানুষের জন্য।
সাইনাস অ্যালার্জির কারণ কী হতে পারে, তা জেনে নেওয়া যাক আজকের প্রতিবেদনে।
বায়ু দূষণ ও খারাপ বায়ুর মান
শহরাঞ্চলে সাইনাস অ্যালার্জির অন্যতম প্রধান কারণ হলো বায়ু দূষণ। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণাধীন ভবনের ধুলা, শিল্প দূষণকারী পদার্থ ও কণা নাকের আস্তরণ ও সাইনাসে জ্বালা ধরায়। ক্রমাগত সংস্পর্শে আসার ফলে মিউকোসাল আস্তরণ প্রদাহিত হয়, যা পরাগ, ধূলিকণা ও ছত্রাকের মতো অ্যালার্জেনের প্রতি আরো সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দীর্ঘস্থায়ী জ্বালা সাইনাসের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে ঘন ঘন অ্যালার্জির প্রকোপ দেখা দেয়।
অভ্যন্তরীণ জীবনধারা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থান
শহুরে মানুষ বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে কাটায়, যেমন বাড়ি, অফিস, শপিং মল ও যানবাহন, প্রায়শই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। এয়ার কন্ডিশনিং আরাম দিলেও এটি নাকের পথ শুকিয়ে দেয়, শ্লেষ্মা ঘন করে এবং সাইনাসের অ্যালার্জেন কার্যকরভাবে পরিষ্কার করার ক্ষমতা হ্রাস করে। অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এসি সিস্টেম থেকেও ধুলা, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া আসে, যা সাইনাসের সমস্যা আরো খারাপ করে তোলে।
নির্মাণকাজ, ধুলাবালি ও নগর সম্প্রসারণ
দ্রুত নগর উন্নয়নের অর্থ হলো অবিরাম নির্মাণ কার্যকলাপ। নির্মাণ স্থান থেকে সূক্ষ্ম ধুলার কণা সহজেই নাকের পথ ও সাইনাসে প্রবেশ করে, যা প্রদাহ সৃষ্টি করে।
বড় কণা আটকে যায়। কিন্তু এই ক্ষুদ্র জ্বালাময় পদার্থগুলো সাইনাস গহ্বরের গভীরে প্রবেশ করতে পারে, যা দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
যে লাইফস্টাইল সাইনাসের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়
শহুরে জীবনে প্রচলিত মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম, পানিশূন্যতা ও খারাপ খাদ্যাভ্যাস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো দুর্বল করে তোলে। পরিষ্কার বাতাস ও সূর্যালোকের সংস্পর্শে না আসা শরীরের প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে। মূল কারণটি সমাধান না করে ঘন ঘন নাকে স্প্রে নেওয়া বা নিজে ওষুধ কিনে খাওয়া সমস্যাটিকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সাইনাস অ্যালার্জি কেন দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে
দূষণ ও অ্যালার্জেনের বারবার সংস্পর্শে আসার ফলে মাঝে মাঝে দেখা দেওয়া অ্যালার্জি দীর্ঘস্থায়ী সাইনাসের সমস্যায় পরিণত হতে পারে। নাকের আস্তরণ ঘন হয়ে যায়, সাইনাসের নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে যায় এবং সংক্রমণ আরো ঘন ঘন হয়। অনেক শহুরে রোগীর কষ্ট সপ্তাহের পরিবর্তে মাসখানেক ধরে স্থায়ী হয় বলেও জানা যাচ্ছে।
শহর-সম্পর্কিত সাইনাস অ্যালার্জি পরিচালনার জন্য পরিবেশ ও জীবনযাত্রা উভয় ক্ষেত্রেই সমন্বয় প্রয়োজন। এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার, ভালোভাবে হাইড্রেটেড থাকা, নাক স্যালাইন দিয়ে ধুয়ে ফেলা, ভারী দূষণের সংস্পর্শ কমানো এবং ঘরের ভেতরের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা এই বিষয়ে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সাইনাসের ক্ষতি রোধ করার জন্য সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : নিউজ ১৮