সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও চিন্তাকে প্রতিনিয়ত শানিত করে চলেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা। প্রযুক্তি, কৃষি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য কিংবা সেবামূলক খাতে নিত্যনতুন উদ্ভাবনী ভাবনা নিয়ে তারা এগিয়ে আসছেন। এই তরুণদের চোখে ধরা পড়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।
তবে অনেক সময় সুন্দর ও কার্যকর অনেক ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের মেলে ধরতে পারেন না। আত্মবিশ্বাসের অভাব, পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনার সংকট কিংবা সুযোগের সীমাবদ্ধতায় বহু উদ্ভাবনী চিন্তা মগজ আর কাগজেই রয়ে যায়। উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের ভাবনা তুলে ধরতে পারেন না।
এমনই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের উদ্ভাবনী ভাবনাকে বাস্তবিক রূপ ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিজনেস আইডিয়া প্রতিযোগিতা-২০২৪’-এর চূড়ান্ত পর্ব। ১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সম্মেলন কক্ষে এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিব্যবসা ও উন্নয়ন শিক্ষা ইনস্টিটিউটের (আইএডিএস) উদ্যোগে এবং নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগিতায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়তে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করে আইএডিএস।
প্রতিযোগিতায় ২৫০টি দলকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘টিম গ্রিন ডাই’। ফার্স্ট রানার আপ ও সেকেন্ড রানার আপ হয়েছে যথাক্রমে ‘টিম ক্যালসার’, ‘টিম ব্রেইনিয়াক্স’। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে যথাক্রমে ‘টিম অ্যাকুয়া সেন্স’ ও ‘টিম এগ্রি উদ্যোগ’।
প্রতিযোগিতাটি শুরু হয় গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতায় আড়াই শতাধিক ব্যবসায়িক আইডিয়া জমা পড়ে। প্রতিটি দলে তিনজন করে সদস্য ছিল। প্রাথমিক বাছাই ও একাধিক মূল্যায়ন ধাপ শেষে ‘দ্য ব্রেইনিয়াক্স’, ‘টিম ক্যালসার’, ‘টিম এগ্রি উদ্যোগ’, ‘টিম অ্যাকুয়া সেন্স’ এবং ‘টিম গ্রিন ডাই’ চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত এই পাঁচটি দলগুলো তাদের আইডিয়া উপস্থাপন করে। প্রতিটি উপস্থাপনা শেষে উদ্যোগগুলোর বিষয়বস্তু ওপর মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ‘দ্য ব্রেইনিয়াক্স’ জৈব আবর্জনা (কলার খোসা, কমলার খোসা প্রভৃতি) থেকে পরিবেশবান্ধব কাগজ তৈরির উদ্যোগ উপস্থাপন করে। ‘টিম এগ্রি উদ্যোগ’ একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্ম উপস্থাপন করে, যেখানে ‘কৃষি বন্ধু’ অ্যাপের মাধ্যমে বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল চাষের বিভিন্ন ধাপের দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। ‘টিম গ্রিন ডাই’ মাইক্রোঅর্গানিজম ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব রঞ্জক তৈরির একটি উদ্যোগ উপস্থাপন করে। দেশের টেক্সটাইল শিল্প থেকে হওয়া পরিবেশদূষণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারবে এ উদ্যোগ।
‘টিম অ্যাকুয়া সেন্স’ উপস্থাপন করে একটি বিনিয়োগ ও চাষ ব্যবস্থাপনাভিত্তিক ইকোসিস্টেম। এতে চলমান প্রকল্পগুলোর তথ্য, কাজের অগ্রগতি ও অর্জিত মুনাফার বিবরণ থাকবে। পাশাপাশি পানির গুণগতমান পর্যবেক্ষণের জন্য তারা একটি ডিভাইসের প্রোটোটাইপ নকশা করেছেন। এর আগে অনলাইনে নিজেদের বিষয়বস্তু নিয়ে উপস্থাপন করেন ‘টিম ক্যালসার’। ডিমের খোসার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং খোসাকে জৈবিক সার হিসেবে ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
তরুণদের উদ্দেশ্যে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম হলো বিশে^র সত্যিকারের সম্পদ। দেশ থেকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছাতে তাদের প্রস্তুত করার জন্য এই প্রতিযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিঁড়ি। আমার বিশ্বাস, একজন মানুষের মধ্যে পরিশ্রম, ধৈর্য এবং ভালো ব্যবহার থাকলে তার সাফল্য আসবে। তরুণদের আহ্বান জানাই তাদের চিন্তাকে আরও বিকশিত করুক। কোথায় কোথায় আপনাদের মেধাকে বিনিয়োগ করার সুযোগ আছে সেটি খুঁজে বের করুন।’
লেখক : শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ, কৃষি অনুষদ, দ্বিতীয় সেমিস্টার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ