১০-দলীয় জোটের বিকল্প নেই : নাহিদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমুদ্দিন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে দলের কার্যক্রমের সূচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।

পরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা ধারণ করে, সংস্কারের অগ্রযাত্রাকে নিয়ে যেতে হলে ১০-দলীয় জোটের বিকল্প নেই। আগামী নির্বাচনে ১০-দলীয় জোট বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল। তাই এই এলাকা থেকেই আমরা নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছি। এবারের নির্বাচন আধিপত্যপক্ষবিরোধী যাত্রা। ১০-দলীয় ঐক্যকে জয়ী করতে সারা দেশের জনগণকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা ১০-দলীয় ঐক্যজোটকে বিজয়ী করুন; ১০-দলীয় ঐক্যজোটের মার্কাকে বিজয়ী করুন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সারা দেশে যেই ৩০ জন প্রার্থী রয়েছেন, সেই ৩০ জন প্রার্থীকে ‘শাপলা কলি’ মার্কায় বিজয়ী করে সংসদে পাঠান। সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং ১০-দলীয় ঐক্যজোট সাধারণ মানুষের কথা বলবে, গণঅভ্যুত্থানের কথা বলবে, সংস্কারের কথা বলবে, সার্বভৌমত্বের কথা বলবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপি নেতা বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি সংস্কারের পক্ষে যেরকম দৃঢ় অবস্থান, বিচারের পক্ষে যেরকম দৃঢ় অবস্থান, একইভাবে নির্বাচন এবং গণভোটের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে আছে। যেকোনো মূল্যে ১২ ফেব্রুয়ারি যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয়, সেজন্য যা যা করা প্রয়োজন তা আমরা করব এবং সেই নির্বাচনে জয়লাভ করে আমরা সংসদে যেতে চাই। আমাদের সামনে এটাই এখন একমাত্র এজেন্ডা।

নির্বাচন কমিশন এবং সরকার একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিচ্ছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের জায়গা থেকে এবং নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আচরণ করছে না। আমরা বিভিন্ন সময় বলে এসেছি তারা একটি বিশেষ দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, এই যে গত কয়েক দিন নির্বাচন প্রচারণার নিয়ম না থাকলেও তারা নির্বাচনী প্রচারণা করেছে কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যদিকে আমরা শুধু ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোয় নির্বাচন কমিশন আমাদের শোকজ নোটিস দিয়েছে। আমরা এটা বারবার বলেছি যে, নিরপেক্ষতা থাকতে হলে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে। জিয়ারত শেষে দলটি মতিঝিল অভিমুখে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ মিছিল শুরু করে। তবে মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে এনসিপি নেতাদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮, আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৮-সহ অন্যান্য নেতা তাদের নির্বাচনী এলাকায় প্রচার শুরু করেন।

অন্যদিকে, দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নির্বাচনে অন্যতম বড় এজেন্ডা বিচার। চব্বিশের আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন, নিহত হয়েছেন এবং শহীদ ওসমান হাদির বিচার করা। এ সময়, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল, জাবেদ রাসিন, যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, দিলশানা পারুল ও নাবিলা তাসনিদসহ দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।