কুমিল্লায় ভোটের লড়াইয়ে তিন নারী প্রার্থী, মাঠে সরব প্রচারণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ৮০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে তিনজন নারী প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সীমিত সংখ্যক হলেও নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের উপস্থিতি আলাদা করে নজর কাড়ছে।

এই তিন নারী প্রার্থী হলেন—কুমিল্লা-৫ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে তারা প্রতীকের প্রার্থী শিরিন আক্তার, কুমিল্লা-৬ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে মই প্রতীকের প্রার্থী কামরুন্নাহার সাথী এবং কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম, যিনি ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন তারা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরেন এবং ভোট প্রার্থনা করেন।

কুমিল্লা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার সকালে প্রচারণার সময় আমার কর্মীদের ব্যবহৃত গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনার পরও তিনি নির্বাচনী মাঠে থাকবেন এবং ভোটারদের কাছে যাবেন। এসময় তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিজয় অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কুমিল্লা-৬ আসনের বাসদের প্রার্থী কামরুন্নাহার সাথী বলেন, কুমিল্লা সদর আসনে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। মই প্রতীক নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছি। এসময় তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের পক্ষে তার লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনিও একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করেন।

এদিকে কুমিল্লা-৫ আসনের জেএসডি প্রার্থী শিরিন আক্তারও নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যায় কম হলেও নারী প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনী মাঠে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটারদের রায়ে তাদের অবস্থান কীভাবে প্রতিফলিত হয়।